‘প্রবৃদ্ধি উন্নয়ন ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় আমাদের ভাবনা ও কৌশল’ – এ দর্শন দিয়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশেন শুরু হয়। এ সময় গত ৭ বছর ধরে সন্তোষজনক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন সূচকে অভূতপূর্ব সাফল্যের কথা উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে, জিডিপিসহ মাথাপিছু আয় বাড়ানো, উচ্চতর আয়ের সুফল সর্বস্তরে পৌঁছে দেয়া, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিতের পাশাপাশি সমস্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।
আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দ্বিতীয় মেয়াদের তৃতীয় বাজেট এটি। পেছনের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে সবচেয়ে বড় আকারের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান বাজেট বক্তৃতায়।
দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে অগ্রাধিকারমূলক ৮ প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণসহ বিদ্যুতের সরবরাহ বৃদ্ধির ওপরও জোর দেন।
এছাড়াও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা ও জনশক্তি রপ্তানিতে শ্রমিকদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে তুলতে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
বাজেটে অতি দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর প্রকল্পগুলোতে বরাদ্দ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর কথা বলা হয়। মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরে বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে এবার বেশি জোর দেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ বাড়াতে নজর দেয়ার কথাও বলেন তিনি।
সরকারি ব্যয় মেটাতে রাজস্ব বোর্ড নিয়ন্ত্রিত করের ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। যদিও চলতি অর্থবছরে এ খাতে এখানো ঘাটতি রয়েছে। বিদেশি সাহায্য প্রাপ্তিতে কিছুটা সাফল্যের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আগামী বছরও বিদেশি অনুদান ও ঋণের ওপরই নির্ভর করেছেন।
উপসংহারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের অর্থনীতিতে গতিশীলতা আসার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায়, রপ্তানি আয় বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন আর্থমন্ত্রী।
আর জনশক্তি রপ্তানি বাড়ায় প্রবাসী আয়েও গতিশীলতা আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন।