৭ জুন আজ। বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা দিবস। মঙ্গলবার ছয় দফার ৫০ বছর পূর্তি পালিত হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ছয় দফা, পাকিস্তানের শাসন-শোষণ আর নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রতিবাদের জোরালো আওয়াজ।
১৯৬৬'র এ দিনে আইয়ুব শাহীর লেলিয়ে দেয়া পুলিশের বুলেটে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে বাঙালির মুক্তির দাবিতে পরিণত হয় এ ছয় দফা। যার পথ ধরেই এসেছে স্বাধীনতা।
১৯৬৫'র পাক-ভারত যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ১৯৬৬'র ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে পাকিস্তানের সব বিরোধী দলের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু এসময় ছয় দফা দাবি উত্থাপনের প্রস্তাব দিলে আয়োজক কমিটি তা প্রত্যাখান করে। প্রতিবাদে সম্মেলন বয়কট করেন শেখ মুজিব। ঢাকায় ফিরে বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি পেশ করেন ছয় দফা। বঙ্গবন্ধুকে ‘বিচ্ছিনতাবাদী’ আখ্যা দিয়ে আইয়ুব খান, অস্ত্রের ভাষায় ছয় দফা মোকাবেলার ঘোষণা দেন।
ভোটের অধিকার, আলাদা মুদ্রা ও আঞ্চলিক কর পদ্ধতিসহ নানা দাবিতে ছয় দফার সমর্থনে সারাদেশে আন্দোলন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ৭ জুন হরতালের ডাক দেয় আওয়ামী লীগ। ছাত্র-শ্রমিক-জনতা অভূতপূর্ব সাড়া দেয় সে ডাকে। মুক্তিকামী মানুষের মিছিলে গুলি চালায় পাকিস্তানী সামরিক জান্তা। শহীদ হন মনু মিয়া, ওয়াজিউল্লাহসহ আরো অনেকে। ছয় দফা হয়ে ওঠে বাঙালির মুক্তির সনদ।
ছয় দফার ধারাবাহিকতায় আসে আগরতলা মামলা, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন। সবশেষে মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতা পায় বাঙালি।