ধর্মের নামে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ হারাম—এ কথা উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রধান ইমাম ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংগঠনটির চেয়ারম্যান লাখো মুফতি, আলেম-ওলামার স্বাক্ষর সম্বলিত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী শান্তির ফতোয়া প্রকাশ করেছে।
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দেশের এক লাখ আলেম, মুফতি ও ইমামের সই করা ৩২ পৃষ্ঠার ফতোয়া প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা নামের একটি সংগঠন।
সংগঠনটির দাবি, পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে প্রকাশ করা হয়েছে ওই ফতোয়া। ফতোয়ার সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, যারা ইসলামের নামে জঙ্গিবাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে, তারা বেহেশত তো দূরে থাক, বেহেশতের গন্ধও পাবে না। কারণ, ইসলামে কোনো বৃদ্ধ, নারী, শিশু, ধর্মীয় গুরু এবং অমুসলিম, অর্থাৎ, যারা যুদ্ধের আওতায় নয়, তাদের হত্যা নিষিদ্ধ। ইসলামে আত্মঘাতী হামলা বৈধ নয়। কারণ, আত্মঘাতীর জানাজা পড়াও ইসলামে বৈধ নয়।
সংবাদ সম্মেলনে খতিব বলেন, ‘ফতোয়ায় কি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ ঠেকানো যাবে? এ প্রশ্ন উঠতে পারে। আমরা দৃঢ়কণ্ঠে বলতে চাই, অস্ত্রের চেয়ে ফতোয়ার শক্তি অনেক ধারালো, মনস্ক চেতনা মানবকর্মের মূল উৎস, সঠিক ফতোয়া সেই মনস্ক চেতনাকে শুদ্ধ করে আলোড়িত করে।’
ফরীদ উদ্দীন বলেন, জঙ্গিবাদী ছাড়া বাকি সব আলেমের প্রতিনিধিত্ব করছে জমিয়তুল উলামা।
ফতোয়া কার্যকরের কোনো ব্যবস্থা আছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফতোয়া হচ্ছে এ-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত। তারা এটা কার্যকর করার অধিকার রাখেন না, তারা কেবল বার্তাবাহক আর বাংলাদেশের মুসলিম-সমাজে ফতোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। এটা জঙ্গিবাদীদের ওপর একটি নৈতিক চাপ তৈরি করবে— তাদের মানসিক শক্তি ভেঙে পড়বে।
ফরীদ উদ্দীন মাসউদ বলেন, জঙ্গিবাদীদের মনোবৈকল্য দূর করা ফতোয়া প্রকাশের উদ্দেশ্য। সন্ত্রাস ও জিহাদ যে এক জিনিস নয়, তা পবিত্র কোরআন, হাদিসের আলোকে যুক্তি দিয়ে তুলে ধরার উদ্দেশ্য ফতোয়া দেয়া হয়েছে। এখন আমাদের কর্তব্য হলো এসব দেখেশুনেও বোবা হয়ে শয়তানের মতো দাঁড়িয়ে না থাকা। জঙ্গিবাদী প্রতিরোধে পারলে হাতে, নইলে মুখে, আর একেবারে না পারলে অন্তর থেকে ঘৃণা করা।
ফরীদ উদ্দীন মাসউদ বলেন, গত ৩ জানুয়ারি থেকে আলেমদের স্বাক্ষর অভিযান শুরু হয় আর শেষ হয় ৩১ মে।