সমঝোতার ভিত্তিতেই তিস্তার পানি বণ্টন হওয়া উচিত
দীর্ঘদিন ধরেই ঝুলে আছে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়টি– বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপত্তিতে শেষ পর্যন্ত আটকে যায় চুক্তি।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের মাধ্যমে আবারো ক্ষমতায় এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার চাইছে ত্রিপক্ষীয় সংলাপ আর তিস্তা ইস্যুতে বেশ নরম সুরেই কথা বলছেন মমতা।
সবমিলিয়ে পুরো বিষয়টিকে আশাব্যঞ্জক— উল্লেখ করে বিশ্লেষকরা বলেন, পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই হোক তিস্তার পানি বণ্টন।
মাঠ শুকিয়ে চৌচির.কোথাও পানির দেখা নেই। ফসলহীন এ বিরানভূমি কৃষকের দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর করে.বাড়ায় হতাশা। তবে প্রকৃতির নিয়মে পানি মিললে এ জমিতে কৃষক ফলাতেন ফসল.ঘুচতো কৃষকের দু:খ। তিস্তার পানি নিয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের এ কষ্ট দীর্ঘ দিনের।
পানির অভাবে মাইলের পর মাইল জমিতে ফসল ফলে না. জমি থেকে যায় পতিত।
ভারত বাধ দিয়ে তিস্তার পানি আটকে রাখায় লাঘব হচ্ছে না কৃষকের কষ্টের। এ নিয়ে ভারতের সঙ্গে দেন-দরবার কম হয়নি। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির খসড়া হয়ে গেছে অনেক আগেই। বেশ কয়েকবারই চুক্তি সইয়ের উদ্যোগ নেয়া হলেও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ও মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মনোমালিন্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপত্তিতে ঝুলে যায় বিষয়টি।
সিকে ছেড়ে না উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের তবে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন।
নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবারো ক্ষমতায় তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে ত্রিপক্ষীয় সংলাপ চাইছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। বাংলাদেশ, ভারত ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার, তিন পক্ষের আলোচনার মধ্য দিয়ে অমীমাংসিত এ বিষয়টি সামনে এগিয়ে নিতে কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।
তিস্তা ইস্যুতে আগের অজবস্থান থেকে সরে গিয়ে অনেকটা নমনীয় মনোভাবই দেখাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।
এ অবস্থায় পুরো বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন বিশ্লেষকরা.? এতে করে কি তিস্তার পানি নিয়ে আশার আলো দেখার সুযোগ তৈরি হবে.?
বিশ্লেষকদের মতে, পানি বণ্টন বিষয়ে সুরাহা করতে বৈঠক ঢাকা কিংবা দিল্লি যেকোনো জায়গায়ই হতে পারে। তবে।
দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়কে ইতিবাচকভাবে দেখা উচিত বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা।