সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব একসঙ্গে কাজ করবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে সব ধরনের উদ্যোগ নেবে বাংলাদেশ।
সৌদি আরব সফর নিয়ে বুধবার সকালে জাতীয় সংসদে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মুসলিম উম্মার শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ অঙ্গীকারাবদ্ধ— উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস দমনে সৌদি আরবের উদ্যোগে গঠিত ইসলামী জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হয়েছে। ৪০টি দেশের এ জোটের সুবাদে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ এসেছে।
সফরে সৌদি বাদশাহকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্সের কথা জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, সম্প্রতি সৌদি আরব সফরের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বে আওয়ামী লীগ সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্ব পুনঃস্বীকৃত হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সফরে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক দৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গতিশীলতা আনবে। এ সফর বাংলাদেশ সৌদি আরব সম্পর্ককে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।’
সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে হুইপ মো. শহীদুজ্জামান সরকারের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথমবারের মতো সৌদি সরকার ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সম্প্রতি সৌদিআরব সফরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা বিষয়ে সম্পর্ক উন্নয়নে এক নতুন ও পূর্ণাঙ্গ ভিত্তি তৈরি হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী তার সৌদি আরবের সফর সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলেন, সৌদি আরবের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের অফুরন্ত সুযোগ জেনে আনন্দিত হন এবং তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।’
তিনি বলেন, সবশেষে আমার উপস্থিতিতে সৌদি আরবের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে দক্ষ অদক্ষ শ্রমিক নেয়ার জন্য সেনাকল্যাণ সংস্থার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, সৌদি আরবের এ সফর বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ককে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নারীর ক্ষমতায়নে সফলতা মুসলিম বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে সৌদি নেতৃবৃন্দ মত প্রকাশ করেন।
সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের এ নতুন সম্পর্কের ফলে মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশে গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে ও ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বলতর হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, এ সফর বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের ভ্রাতৃপ্রতিম দৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গতিশীলতা আনবে।
এসময় প্রধানমন্ত্রী সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজের বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন, সৌদি বাদশা বলেছেন, ‘সৌদি আরব কনসিডার্স বাংলাদেশ অ্যাজ এ টপ ইসলামিক কান্ট্রি ইন রেস্পেক্ট অব ইটস্ রিলেশনশীপ। বাংলাদেশ ইজ এ ইম্পোর্টেন্ড কান্ট্রি।‘
কৃজ্ঞতায় বাসস।