চট্টগ্রামে এসপিপত্নী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আরো দুই থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হবে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত 'মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস' উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলেন শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া দুই জনের মুখোমুখি করা জন্য বাবুল আক্তারকে নিয়ে আসা হয়েছিল।
গতকাল রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন (সিএমপি) পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার চট্টগ্রামে এসপির স্ত্রী মিতু হত্যা মামলায় আনোয়ার ও ওয়াসমি জড়িত ছিল তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, দুপুরে মহানগর হাকিম হারুনুর রশিদের আদালতে এরা দুজন এ জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি দেয়া ওয়াসিম বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতুকে সরাসরি গুলি করে হত্যা করেছে। এই হত্যাকাণ্ডে আনোয়ার এবং ওয়াসিম সরাসরি অংশ নেয়া ছাড়াও এই মিশনে সাত থেকে আট জন আরো জড়িত ছিল বলে তারা স্বীকার করেছে।
বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইকবাল বাহার বলেন, মামলার বাদী হিসেবে বাবুল আক্তারের সঙ্গে পুলিশ যে কোনো সময় কথা বলতে পারেন। সেই হিসেবেই কথা বলে হয়েছে, প্রয়োজনে সামনেও বলা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
গতকাল (শনিবার)বিকেল সোয়া ৪টার দিকে মিতু হত্যা ঘটনায় স্বামী বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বাসায় ফেরত পাঠায় পুলিশ বলে জানান বাবুল আক্তারের বাবা আবদুল ওয়াদুদ।
এর আগে, দুপুরের রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানান জন্য তাকে নিয়ে আসা হয়েছে।
গতকাল-শুক্রবার রাতে, খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-ওসি মঈনুল ইসলাম এসপি বাবুল আক্তারকে নিয়ে যান।
পরের ঘটনা:
এ হত্যাকাণ্ড নতুন চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে মিতু হত্যা মামলার তদন্ত। আইজিপি দেখা করতে বলেছে, এ কথা বলে শুক্রবার রাতে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবুলকে নিয়ে যায় পুলিশ।
এদিকে, আটককৃতদের চিহ্নিত করতে পুলিশ বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বাবুলকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা যায়নি বলে জানান পরিবার পরিজন। ওই সময় বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
বাবুলকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেন। মিতু হত্যার ঘটনা অন্য দিকে মোড় নেয়া হচ্ছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে, ১৩ জনু মিতু হত্যা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে কারাবন্দি এক জেএমবি সদস্য ফুয়াদ ওরফে মোহাম্মদ বুলবুলকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয় চট্টগ্রাম পুলিশ।
এর আগে, গত রোববার মিতু হত্যার ঘটনায় আটক দুই জনকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। বদলানো হয় এ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
ওইদিন সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (জনসংযোগ) আনোয়ার হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (দক্ষিণ) জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মো. কামরুজ্জামানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক কাজী রকিব উদ্দিন এর আগে তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন বলে জানান তিনি। এ মামলার গতি ফিরেতে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এদিকে, এ মামলায় গ্রেপ্তার আবু নসুর গুন্নু ও শাহ জামান ওরফে রবিন নামে দুজনকে আদালতে হাজিরের পর ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
মিতু হত্যার পর রাতে পাঁচলাইশ থানার এক এসআইকে দিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে মামলার করার সিদ্ধান্ত হলেও বাবুল নিজেই বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় তিন জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শিবিরের সাবেক এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যার কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা মাইক্রোবাসের চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।
এদিকে, মিতু হত্যায় আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশের (একিউআইএস) বাংলাদেশ শাখা আনসার-আল-ইসলাম নিন্দা জানায়— এ তথ্য প্রকাশ করে জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ।
উল্লেখ, এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে গত ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।