তুরাগ-বালু-বুড়িগঙ্গা-শীতলক্ষ্যা নদীর পানির স্বচ্ছতা ও নাব্যতা রক্ষার লক্ষ্যে বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
মঙ্গলবার সংসদে বাজেট পরবর্তী অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৪৪ কোটি ৯ লাখ টাকা।
আনিসুল ইসলাম বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পুংলি, বংশাই ও তুরাগ নদী দিয়ে যমুনা নদী হতে ২৪৫ কিউসেক পানি এনে বুড়িগঙ্গা নদীতে পানির প্রবাহ ১৪১ কিউসেক বৃদ্ধির মাধ্যমে বুড়িগঙ্গা নদীর পানি গুণগতমান বৃদ্ধি, ঢাকা মহানগরের চারদিকে বৃত্তাকার নৌ-পথসহ উল্লেখিত নদীসমূহে সারা বছর নৌ-যান চলাচলের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় গভীরতা নিশ্চিত করা, সেচ ও মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
এ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে নিউ ধলেশ্বরী ও পুংলি নদী ৬৩.৫০ কিঃমিঃ ম্যানুয়ালী বা এক্সকাডেটর দ্বার খনন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে উক্ত অংশসহ ১৬২.৫০ কিঃমিঃ নদী ড্রেজার দ্বারা খননের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি প্রকল্পটির বাস্তবায়নকালীন সময়ে পরিলক্ষিত হয়, নদীসমূহ ড্রেজিং করার কারণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, সড়ক বিভাগ এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত ২২টি ব্রিজের ফাউন্ডেশন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে। এছাড়া যমুনা নদী থেকে পলি এসে নতুন ধলেশ্বরী নদীর অফটেক এলাকায় পলি পড়ে নতুন চর জেগে উঠছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ডিপিপি সংশোধনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ লক্ষ্যে ১ হাজার ১২৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত সংশোধিত ডিপিপি চলতি মাসের ১৪ তারিখে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে বুড়িগঙ্গা-তুরাগ (শীতলক্ষ্যা নদীসহ) নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে। বুড়িগঙ্গা-তুরাগ (শীতলক্ষ্যা নদীসহ) নদীতে নৌযান চলাচলের নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে। সেচ ও মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন হবে এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়ন সাধিত হবে। সূত্র: বাসস