দারিদ্রতার কারণে মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে বিশ্বের প্রায় ৭ কোটির মতো শিশু—এসব শিশুদের একটি বড় অংশই আফ্রিকার বাসিন্দা।
মঙ্গলবার ‘স্টেট অব দ্য ওয়ার্ল্ড চিলড্রেন-২০১৬’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে ‘সামঞ্জস্যহীনভাবে’ সহিংস সংঘর্ষ, মানবিক বিপর্যয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে এসব শিশুরা।
আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে ৬ কোটি ৯০ লাখ শিশু ৫ বছর বয়স হওয়ার আগেই মারা যাবে-এমনই তথ্য দিয়েছে ইউনিসেফের প্রতিবেদন।
যদি রাজনৈতিক নেতারা বৈশ্বিক বৈষম্যের দিকে নজর না দেন তাহলে শিশুদের এ মৃত্যু হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে শিশুরা সামঞ্জস্যহীনভাবে সহিংসতা, মানবিক বিপর্যয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা স্বাস্থ্য সংকটে ভুগছে। এছাড়া, ২০৩০ সালের মধ্যে ১৬ কোটি ৭০ লাখ শিশু চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকবে এবং ৬ কোটি প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষার্থী ঝরে পড়বে।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংগঠন ইউনিসেফ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক নেতারা যদি বিশ্বব্যাপী সমতা আনতে ব্যর্থ হয় তাহলে ২০৩০ সালের মধ্যে মারা যাবে বিশ্বের ৬ কোটি ৯০ লাখ শিশু। ৫ বছরের কম বয়সী এসব শিশুদের অধিকাংশই মারা যাবে প্রতিরোধযোগ্য রোগে।
এদের প্রায় অর্ধেকেরই বাস আফ্রিকা মহাদেশে—বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে অ্যাঙ্গোলার শিশুরা। দেশটিতে শিশুমৃত্যুর হারও সবচাইতে বেশি। ২০১৫ সালে দেশটিতে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি ১ হাজার শিশুর মধ্যে মারা গেছে ১৫৭ জন। শিশু মৃত্যুর এ সংখ্যা ১৩৯। গতবছর সোমালিয়ায় প্রতি একহাজার শিশুর মধ্যে মারা গেছে ১৩৭ জন।
ইউনিসেফ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হলে ২০৩০ সাল নাগাদ দারিদ্রতার সম্মুখীন হবে বিশ্বের ১৬ কোটি ৭০ লাখ শিশু। দরিদ্রতার কারণে বাল্যবিবাহের শিকার হবে আরো ৭৫ কোটি শিশু।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি লেক মনে করেন, এসব শিশুদের পেছনে এখনই বিনিয়োগ করা জরুরি—না হলে তারা বড় ধরনের বৈষম্যের শিকার হবে এবং বিশ্বে বিভাজন আরো বড় আকার ধারণ করবে।