পাকশির রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সুন্দরবনের রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার জাতীয় সংসদে এ কথা বলেন তিনি।
সুন্দরবনের ক্ষতির শঙ্কা থাকলে রামপালে বিদ্যুৎ প্রকল্প করা হতো না—এ কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সব ধরনের সতর্কতা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন, নির্ধারিত সময় ২০১৮ সাল নাগাদই সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নে তিনি বলেন, সরকারের সাহসী নেতৃত্ব ও দৃঢ় সিদ্ধান্তের ফলে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হয়েছে। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে এবং আগামী ২০১৮ সাল নাগাদ এ সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া সম্ভব হবে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা এবং বাংলাদেশের প্রধানতম শ্রম বাজার মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও সরকারের ঐকান্তিক প্রয়াসের ফলে দেশে ও বিদেশে গত সাত বছরে প্রায় ১০ কোটি ৬৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এত কর্মসংস্থান অতীতে আর কখনো হয়নি সংসদে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী।
সকালে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
এর আগে সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে অধিবেশনের কার্যসূচি শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার পূর্বের মেয়াদে জনগণের অভূতপূর্ব রায় নিয়ে এ সরকার গঠন করে। এ গণরায়ের ভিত্তি ছিলো রূপকল্প-২০২১ সালে দিন বদলের সনদ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত একটি অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল আধুনিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার কর্মসূচির প্রতি জনগণের অকুন্ঠ সমর্থন।
তিনি বলেন, যখন ২০০৯ সালে সরকার গঠন করা হয় তখর বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা চলছিল— দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও মন্দা চলছিল। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়ার ফলে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০১৫ সালের নমিনাল জিডিপির ভিত্তিতে বিশ্বে ৪৬তম এবং ক্রয়ক্ষমতা সমতার ভিত্তিতে ৩৪তম স্থান অধিকার করেছে— বর্তমানে মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৬৬ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান সরকার যেহেতু একটি রূপকল্প-২০২১ সামনে রেখে অগ্রসর হচ্ছে— সে কারণে তার দৃষ্টি কেবল এক বছরে সীমাবদ্ধ নয়। আওয়ামী লীগ ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ পেরিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ সমৃদ্ধ, সুখী এবং উন্নত জনপদে পরিণত করার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।