রাজধানীর গুলশানে স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হোলি আর্টিজানে ২০ জনকে রাতেই কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
সেনা সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, শনিবার ৭টা ৪০ মিনিট থেকে যৌথ বাহিনী অভিযান থান্ডারবোল্ড পরিচালনা করে।
অভিযান শেষে বিদেশি নাগরিকসহ মোট ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার ও ৭ হামলাকারীর মধ্যে ৬ জন নিহত ও একজনকে আটক করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০ জনকে গতকাল শুক্রবার রাতেই হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া গতকাল রাতে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন।
ভোর সাড়ে ৭টা ৪০ মিনিটে পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী সোয়াত, নৌবাহিনীর কমান্ডো দল, সেনাবাহিনী ও প্যারা কমান্ডোসহ পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সম্মিলিতভাবে এ অভিযান শুরু করে।
আইএসপিআরের সংবাদ সম্মেলন :
রাজধানীর গুলশান ২ এ রোড নম্বর ৭৯, স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হোলি আর্টিজানে গুলি ছুড়তে ছুড়তে দুস্কৃতিকারীরা প্রবেশ করে এবং সবাইকে জিম্মি করে। ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সেখানে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করে। তাদের অভিযানকালে দুজন সাহসী পুলিশ অফিসার নিহত হন এবং ২০ জনের অধিক পুলিশ অফিসার আহত হয়েছেন। উদ্ভুত এ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীকে অভিযান পরিচালনা করার জন্য সরকার প্রধান থেকে আদেশ প্রদান করা হয়।
সেই আদেশ মোতাবেক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অপারেশন থান্ডারবোল্ট পরিচারনা করার পরিকল্পনা করে। গতকাল রাত থেকেই সেনাবাহিনী তথ্য সংগ্রহ করে। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাব, ফায়ার সার্ভিস ও গোয়েন্দা বাহিনী সদস্য মিলে যৌথভাবে অপারেশন থান্ডারবোল্ড পরিচালনা করা হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কামান্ডো অভিযানের মাধ্যমে ৭.৪০ মিনিটে অপারেশন শুরু হয় এবং ১২ থেকে ১৩ মিনিটের মধ্যে সব সন্ত্রাসীকে নির্মূল করে টার্গেট এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
পরবর্তীতে অপারেশনে সকল কার্যক্রম শেষ করে সকাল সাড়ে ৮টায় অপারেশন সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। অপারেশনের মাধ্যমে ৩ জন বিদেশি তারমধ্যে একজন জাপানি এবং ২ জন শ্রীলঙ্কান নাগরিকসহ ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হওয়া গেছে। অভিযানে ৭ জন সন্ত্রাসীর মাধ্যমে ৬ জন নিহত এবং একজন সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে।
এছাড়াও অভিযানকালে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের প্রত্যেককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাতেই হত্যা করা হয়েছে। প্রচলিত নিয়ম মেনেই ময়নাতদন্ত করা হবে মরদেহের।
সামরিক অপারেশন অধিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাঈম আশফাক চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
অভিযানে অংশ নেয়া কোনো সদস্যই হতাহত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী বিজিবি, পুলিশ ও র্যাব, ফায়ার সার্ভিস ও গোয়েন্দা বাহিনী পরিচানায় ধন্যবাদ জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
তিনি আরো বলেন, ঘটনা তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে জানানো হবে।