গুলশানে রেস্তোরায় সন্ত্রাসীদের হামলায় গোয়েন্দা পুলিশের সহকারি কমিশনার রবিউল ইসলামের নিহত হওয়ার খবরে তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জেও স্বজনদের আহাজারি। অনাগত সন্তানের মুখ আর দেখা হলো না রবিউলের।
স্বামীর মৃত্যুর খবর শোনার পরই সাভার থেকে ঢাকায় ছুটে আসেন তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী।
এই ঘটনায় বনানী থানার ওসি সালাহউদ্দিন আহম্মেদ লুই এর গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে চলছে শোকের মাতম।
রবিউল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর-মাদক টিমে কর্মরত ছিলেন। তিনি বিসিএস পুলিশের ৩০তম ব্যাচের সদস্য। রবিউল পরিবার নিয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে থাকতেন।
গোপালগঞ্জ এসএম মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল মান্নানের ১১ সন্তানের মধ্যে বনানী থানার ওসি সালাহ উদ্দিন আহম্মেদ লুই ছিলেন পঞ্চম। বাবার মৃত্যুর পর ভাইবোনের মধ্যে কাছে তিনি ছিলেন পিতৃতুল্য।
সন্ত্রাসী হামলায় তার মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না তার পরিবার। গোপালগঞ্জের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারি থামছেই না।
সদা হাস্যোজ্জল ও সদালাপী সালাহউদ্দিন প্রতি ঈদেই দুস্থদের নতুন কাপড় ও টাকা দিয়ে সহায়তা করতেন। সবার বিপদে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেন। তার এমন মৃত্যু হতবিহ্বল করে দিয়েছে এলাকাবাসিকেও।
শুক্রবার রাত পৌনে নয়টার দিকে গুলশানের আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ১০ জন যুবক অতর্কিত হামলা চালায়। এরপর তারা ওই রেস্তোরাঁয় যারা ছিলেন তাদের জিম্মি করা হয়।
ওই জিম্মি ঘটনার ১২ ঘন্টা পর এর অবসান ঘটে।
ঘটনাস্থল থেকে গুলশানের প্রায় চার বর্গ কিলোমিটার এলাকা ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুরো এলাকায় প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।