গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরার আশেপাশে রাতভর শ্বাসরুদ্ধকর অপেক্ষায় ছিলেন জিম্মিদের স্বজনরা। ১২ ঘণ্টার জিম্মিদশার অবসানে স্বজনদের মাঝে স্বস্তি এসেছে। তবে, দুঃস্বপ্নের সেই রাতের স্মৃতি এখনও তাদের তাড়া করছে।
গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরায় অস্ত্রধারীদের হাতে জিম্মি হয়েছিলেন প্রকৌশলী হাসনাত করিম। ১৩ বছর বয়সী সন্তানের জন্মদিন উদযাপনে শুক্রবার রাতে স্পেনিশ ওই বেকারিতে যান তিনি। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও ৮ বছর বয়সী আরেক সন্তান। টানা ১১ ঘণ্টা জিম্মি থেকে শনিবার সকাল আটটার দিকে উদ্ধার হন তারা।
গুলশানে তাদের অপেক্ষায় রাতভর ছিলেন হাসনাতের মা ও বাবা। সন্ত্রাসীরা ধর্মের পরিচয় নিয়ে অমুসলিমদের অত্যাচার করেছে বলে মাকে জানিয়েছেন হাসনাত। রাতেই কয়েকজন বিদেশিকে হত্যা করা হয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, চরম উৎকণ্ঠায় বার বার ফোন দিয়েও জিম্মি সন্তান তাহমিদের কোনো সাড়া পাচ্ছিলেন না আফতাব গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার খান। সকালে হঠাৎ ফোন করে তাহমিদ ‘আমরা ভালো আছি’ জানালে হতবিবহ্বল হয়ে পড়েন তিনি। তবে তারপরই কেটে যায় কল।
উদ্ধার হওয়া মানুষ ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়, জিম্মি করে মুসলমানদের কোরানের আয়াত পড়তে বলা হয়। রাতে খেতেও দেয়া হয়। হিজাব পড়া মেয়েদের সঙ্গে ভাল আচরণ করে সন্ত্রাসীরা। যেসব বিদেশি কোরানের আয়াত বলতে পারেনি তাদের অমানবিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।