গুলশানের রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় নিহত গোয়েন্দা পুলিশের সহকারি কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ওসি সালাহউদ্দিন আহমদের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ ও গোপালগঞ্জে চলছে শোকের মাতম।
এ ধরনের মৃত্যু হতবাক করে দিয়েছে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী দেশবাসীকে। শোকস্তব্ধ রবিউলের সন্তানসম্ভবা স্ত্রী। ছোট ভাইকে এভাবে চলে যেতে দেখে স্তব্ধ সালাউদ্দিনের বড় ভাই।
এবারের ঈদে ভাইকে নিয়ে বাড়ি যাওয়ার কথা ছিলো এসি রবিউলের ছোটভাই শামসুজ্জামানের। সেই বাড়ি যাওয়া হচ্ছে তবে মায়ের কাছে নিয়ে যেতে হচ্ছে ভাইয়ের মরদেহ। কথাগুলো বলতে বলতে বার বার কান্নায় ভেঙে পড়ছিল শামসুজ্জামান। ছোট ভাই দেশের জন্য জীবন দেয়ায় এক দিকে যেমন গর্বিত তেমনি শোকে স্তম্ভিত সালাউদ্দিনের বড় ভাই রাজি উদ্দিন খান।
শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে ময়নাতদন্ত করা হয় এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরেনসিক বিভাগ।
এদিকে, বাদ আসর রাজারবাগ পুলিশ লাইনে এসি রবিউল ও ওসি সালাউদ্দিনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে রবিউলকে গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জে ও সালাউদ্দিনকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
গোপালগঞ্জ এসএম মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল মান্নানের ১১ সন্তানের মধ্যে বনানী থানার ওসি সালাহ উদ্দিন আহম্মেদ ছিলেন পঞ্চম। বাবার মৃত্যুর পর ভাইবোনের কাছে তিনি ছিলেন পিতৃতুল্য। সন্ত্রাসী হামলায় তার মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না তার পরিবার। গোপালগঞ্জের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারি থামছেই না।
সদা হাস্যোজ্জল ও সদালাপী সালাহউদ্দিন প্রতি ঈদেই দুঃস্থদের নতুন কাপড় ও টাকা দিয়ে সহায়তা করতেন। সবার বিপদে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেন। তার এমন মৃত্যুতে হতবিহ্বল করে দিয়েছে এলাকাবাসিকেও।
একই হামলায় গোয়েন্দা পুলিশের সহকারি কমিশনার রবিউল ইসলামের নিহত হওয়ার খবরে তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জেও স্বজনদের আহাজারি। অনাগত সন্তানের মুখ আর দেখা হলো না রবিউলের। স্বামীর মৃত্যুর খবর শোনার পরই সাভার থেকে ঢাকায় ছুটে আসেন তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তিনি।