যেসব জঙ্গিরা গুলশানে হামলা চালিয়েছে তাদের শেকড় খুঁজে বের করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সেইজি কিহারার সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।
পরে গণভবনে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।
গুলশানের স্প্যানিশ রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলাকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ হিসাবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যারা সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করেছে সেই অপরাধীদের অবশ্যই শেকড় খুঁজে বের করা হবে।
তিনি বলেন, রেস্টুরেন্টে ভয়ঙ্কর পরিকল্পিত এই হামলার জন্য যারা সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করেছে আমরা অবশ্যই সেই অপরাধীদের শেকড় খুঁজে বের করবো।
জাপানের স্টেট মিনিস্টার ফর ফরেন এফেয়ার্স সিইজি কিহারা আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসীরা এর আগে গুপ্তহত্যা চালিয়েছে এবং পুরোহিত, ফাদারস ও ভিক্ষুদের টার্গেট করেছে। ‘অপরাধে জড়িত অনেক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এবং জাপানের স্টেট মিনিস্টার ঐকমত্য প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ ও জাপান ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে।
এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা ফ্রান্স, বেলজিয়াম, জাপান ও ভারতে সন্ত্রাসী হামলার কথা উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুলশানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত জাপানি নাগরিকদের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য জাপানের স্টেট মিনিস্টার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ এবং বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানাবে এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকার গুলশানে ক্যাফেতে জঙ্গি হামলার ঘটনার বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করতে দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সেইজি কিহারার নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ দল শনিবার ঢাকায় পৌঁছায়।
শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশান ২ নম্বরের হলি আর্টিজেন বেকারিতে একদল অস্ত্রধারী ঢুকে বিদেশিসহ বেশ কয়েকজনকে জিম্মি করে। শনিবার সকালে কমান্ডো অভিযান চালিয়ে ওই রেস্তোরাঁর নিয়ন্ত্রণ নেয় নিরাপত্তা বাহিনী।
পরে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে আইএসপিআর এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুক্রবার রাতেই ২০ জনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ৭ হামলাকারীর মধ্যে ৬ জন নিহত এবং ১৩ জনকে উদ্ধার করার কথা নিশ্চিত করা হয়।
নিহত বিদেশিদের মধ্যে ৯ জন ইতালির, ৭ জন জাপানি ও একজন ভারতের নাগরিক। বাকি ৩ জন বাংলাদেশি, যাদের মধ্যে একজনের যুক্তরাষ্ট্রেরও নাগরিকত্ব রয়েছে।