গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় আটক এক জঙ্গিসহ ২ জন গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে— চিকিৎসা শেষে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক। গুলশান হামলায় নিহত দুই পুলিশ সদস্যের স্মরণে সোমবার রাজারবাগে আয়োজিত শোক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
শহীদুল হক বলেন, জঙ্গিরা হামলার ২০ মিনিটের মধ্যেই বিদেশিদের হত্যা করে। সভায় পুলিশ সদস্যদের হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে পুলিশকে জঙ্গি দমনে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।
গুলশানের মতো এ ধরণের যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব বাহিনীর সমন্বয়ে একটি বিশেষ বাহিনী গঠনের এ সময় আহ্বান জানানো হয়।
গণমাধ্যমগুলোকে বিভ্রান্ত না ছড়াতে পুলিশ প্রধান পরামর্শ দিয়ে বলেন, জঙ্গি হামলার ২০ মিনিটের মধ্যে বিদেশিদের হত্যা করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্য থেকে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় দুই সন্দেহভাজন আটক আছে। চিকিৎসা শেষে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে, দ্রুতই মামলা দায়ের করা হবে।
সভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊদ্ধর্তন কর্মকর্তারা এ প্রথম এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন তারা। আগামীতে এমন যেকোনো অবস্থা প্রতিহতে সকল বাহিনীর সমন্বয়ে একটি বাহিনী গঠনের আহ্বান জানান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে জঙ্গি প্রচারণা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে জানান র্যা বের মহাপরিচালক।
গুলশানের জঙ্গি হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে নিহত পুলিশে সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন খান স্মরণে রাজারবাগ পুলিশলাইনে শোকসভার আয়োজন করে বাংলাদেশ পুলিশ। এতে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বীরত্ব ও দক্ষতার জন্য তাদের প্রশংসা সহকর্মীরা।
দুই সদস্যের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তারা।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হত্যাযজ্ঞ চালায় জঙ্গিরা। ১২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর জিম্মি সংকটের রক্তাক্ত অবসান ঘটে শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে সেনা নেতৃত্বাধীন সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে। অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়, যাদের জঙ্গিরা আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছিল।
এ ২০ জনের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি নাগরিক ও ৩ জন বাংলাদেশি। উদ্ধার অভিযানে নিহত হয় আরও ছয় জন। এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম দফা উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। আহত হন অন্তত ৪০ জন।