জঙ্গি কার্যক্রমে প্রতিরোধে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ—প্রয়োজনে এক্ষেত্রে প্রতিবেশি ও বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা নেয়া হবে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
মঙ্গলবার বিকেল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
দেশীয় জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা রাজধানীর গুলশান হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় হামলা চালায় বলে ফের জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দেশের ভেতরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিই এ হামলার উদ্দেশ্য ছিল।
লিখিত বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিহত সন্ত্রাসীদের শনাক্তকৃত পরিচয় থেকে দেখা গেছে যে, তারা সবাই বাংলাদেশের বিভিন্ন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন সময় যে সকল জঙ্গি কর্মকাণ্ড ইতোপূর্বে সংঘটিত হয়েছে, এ ঘটনাও তারই অনুবৃত্তিক্রমে ঘটানো হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, গুলশানের হামলার ঘটনায় নিহত জঙ্গিদের শনাক্ত করেছেন তাদের অভিভাবকেরা।
লিখিত বক্তব্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, গুলশানের ওই রেস্তোরাঁয় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে জিম্মি উদ্ধার অভিযান শুরু হয়ে ১৩ মিনেটের মধ্যে সন্ত্রাসীদের পরাভূত করা হয়। অভিযানে ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৭ জন বিদেশি ও তিনজন বাংলাদেশি। বিদেশিদের মধ্যে ৯ জন ইতালি, ৭ জন জাপানি ও একজন ভারতীয় নাগরিক। অপর ছয় জনের মরদেহ সন্ত্রাসীদের বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিহত সন্ত্রাসীরা সবাই বাংলাদেশি।– বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্য, বিভিন্ন সময়ে জঙ্গি হামলার মতোই এ ঘটনা ঘটেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে চারটি পিস্তল, তিনটি এ কে টুয়েন্টি টু রাইফেল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়, জিম্মি উদ্ধারে নিহতদের স্মরণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়।
এরপর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বক্তব্য দেন—তবে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, র্যা বের ডিজি বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া প্রমুখ।