রাজধানীর গুলশান রেস্তোরাঁয় হামলায় নিহতদের স্মরণে প্রতিদিনই ৭৯ নম্বর সড়কে জমছে ফুলের স্তুপ, জ্বালানো হচ্ছে মোমবাতি।
এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে তরুণ সমাজ যেন বিপথে না যায় দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বজায় থাকে এমন প্রত্যাশা— শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে জড়ো হওয়া মানুষের। আর তদন্তের স্বার্থে যতদিন প্রয়োজন ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গুলশান রেস্তোরাঁয় হামলায় নিহতদের স্মরণে ৭৯ নম্বর সড়কে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন অব্যাহত রয়েছে। ফুল দিয়ে, মোমবাতি জ্বালিয়ে শোক জানাচ্ছে সবাই। নিরবতাও পালন করেন কেউ কেউ।
শ্রদ্ধা জানাতে আসা অনেকেই এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত তারা।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি প্রতিনিধি দলও দুপুরে নিহতদের স্মরণে প্রার্থনা করেন। দেশে সাম্পদ্রায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা তাদের।
এ হামলাকে কেন্দ্র করে গুলশান এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে– ঈদের কারণে এ নিরাপত্তা আরো বাড়ানো হয়েছে বলে জানান গুলশান কূটনৈতিক জোনর কমিশনার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।
প্রসঙ্গত: গত শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হত্যাযজ্ঞ চালায় জঙ্গিরা। ১২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর জিম্মি সংকটের রক্তাক্ত অবসান ঘটে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেনা নেতৃত্বাধীন সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে। অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের জঙ্গিরা আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছিল। এ ২০ জনের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি নাগরিক ও ৩ জন বাংলাদেশি। উদ্ধার অভিযানে নিহত হয় আরো ছয় জন। এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম দফা উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। আহত হন কমপক্ষে ৪০ জন পুলিশ সদস্য।