পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের কূটনীতিক ও বিশিষ্টজনসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গভবনে প্রথমে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি কূটনৈতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি।
পরে মন্ত্রী ও সাংসদসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরাও আসেন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতে।
এছাড়া তিন বাহিনী প্রধান, সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তা, আইনজীবী ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি।
এ সময় ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতি।
এদিকে, সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান ঈদ জামাতে যোগ দেন রাষ্ট্রপতিসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। নামাজ শেষে দেশের শান্তি কামনায় করা হয় মোনাজাত। ভেদাভেদহীন কোলাকুলিতে মেতে ওঠেন সবাই। ঈদের আনন্দে উৎসবের নগরীতে রূপ নেয় রাজধানী।
ভোর থেকেই রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দান অভিমুখে নামে মানুষের ঢল। ঈদের জামাতে নেয়া তিন স্তরের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে একদিকে মৎস্য ভবন, অন্যদিকে প্রেসক্লাব হয়ে মুসল্লিরা দীর্ঘ লাইন শেষে জমায়েত হন ময়দানে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শুধু জায়নামাজ ছাড়া মুসুল্লিদের আর কোনো কিছু নিয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।
এখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি তাঁর সঙ্গে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, মেয়র, ঊচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেন ঈদের নামাজে। পুরো ময়দান ভরে যায় লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মিজানুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় ঈদের প্রধান জামাত।
নামাজ ও খুতবা শেষে লাখো মুসল্লির মোনাজাতে দেশের শান্তি কামনা ও রেষারেষি ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে সমৃদ্ধির পথে দেশকে এগিয়ে নিতে দোয়া হয়।
নামাজ শেষে, মুহূর্তে মধ্যে গোটা এলাকা পরিণত হয় সৌহার্দ্য আর সম্প্রীতির মিলন মেলায়।
বড়দের সঙ্গে ছোটরাও যোগ দেয় ঈদ আনন্দে।
নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরে চলে ঈদ অ্যাপ্যায়ন। ইট-পাথরের শহরে ঈদের আনন্দ কিছুটা হলেও ফিকে মনে হয় নগরবাসীদের।
ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের মধ্যে দিয়ে পূর্ণতা পেল এক মাসের সিয়াম সাধানা। এই উৎসবে যে আনন্দধারা প্রবাহিত হয়, তা অফুরন্ত পূণ্যময়তা দ্বারা পরিপূর্ণ। সকল পঙ্কিলতাকে ঝেড়ে ফেলে এ পূণ্যময়তা দিয়ে মানুষকে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করলেই পরিপূর্ণতা পাবে ঈদের খুশি।