শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ দিন বা তার বেশি অনুপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীদের পরিচয় মন্ত্রণালয়কে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া এই নির্দেশের কথা জানান মন্ত্রী।
ঈদের ছুটি পর সচিবালয়ে ছিল প্রথম কর্মদিবস।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে করণীয় নিয়ে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবেই এটি করা হবে—এ কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা, আদর ও মমতা দিয়ে বড় করতে চান তারা।
বাড়ি থেকে পালিয়ে জঙ্গিবাদে জড়ানোর বেশ কয়েকটি ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে এ উদ্যোগ নেয়া হলো।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি অফিস আদেশও জারি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টানা ১০ দিনের বেশি শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে তার তালিকা করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে।
গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ও ঈদের দিন ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ ময়দানের কাছে দুটি বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে।
উভয় স্থানে যারা হামলা চালায় তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন রাজধানীর বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, স্কলাসটিকা স্কুল ও বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র। বেশ কয়েক মাস ধরে তারা নিখোঁজ ছিল।
তারই প্রেক্ষাপটে ১০ দিনের বেশি অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষামন্ত্রণালয়।
১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁ ও ঈদের দিন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতের মাঠের কাছে হামলা হয়। হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, স্কলাসটিকা স্কুলসহ বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। তাদের অনেকেই কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন। গুলশানের হামলার পরে দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি দল আইএস।
গতকাল পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহীদুল হক জানান, গুলশান ও শোলাকিয়ার হামলাকারীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির সদস্য।