জঙ্গিবাদ নিয়ে সরকার তার অতীত অবস্থান থেকে সরে এসেছে—জানিয়েছেন মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার এখন মনে করছে এসব হামালার সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে—এটি একটি ইতিবাচক দিক।
জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্র্রস্তাবে বাংলাদেশ সরকার বলেছে অভ্যন্তরীণভাবে এই সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় কি কি সামর্থ্য রয়েছে তা যাচাই করেই প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নেয়ার উদ্যোগ তারা হবে।
এদিকে, বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার আগে এক টুইট বার্তায় এ সফরকে খুব গুরুত্বপূর্ণ অভিহিত করেছেন নিশা দেশাই।
সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একযোগে কাজ করবে বলেও টুইট বার্তায় জানান তিনি। আরেক টুইটে গুলশান হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে গতকাল বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে কারিগরি এবং প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার কথা জানান নিশা।
সন্ধ্যায় গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সফররত মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল এ কথা জানান।
ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন-সন্ত্রাসের ভিকটিম আমি নিজেও।
গুলশান হামলার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দেখা গেছে এসব ঘটনায় বড় লোকের ছেলেরা জড়িত— এর শিকড় খুঁজে বের করতে হবে। কারা তাদের রিক্রুট করে, এর পেছনে কারা আছে-তাও খুঁজে বের করতে হবে।
এর আগে দুইদিনের সফরে রোববার সকালে ঢাকা আসেন নিশা। সফরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ১ জুলাই (শুক্রবার) রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হত্যাযজ্ঞ চালায় জঙ্গিরা। ১২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর জিম্মি সংকটের রক্তাক্ত অবসান ঘটে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেনা নেতৃত্বাধীন সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে। অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের জঙ্গিরা আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছিল।
এ ২০ জনের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি নাগরিক ও ৩ জন বাংলাদেশি। উদ্ধার অভিযানে নিহত হয় আরও ছয় জন। এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম দফা উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। আহত হন কমপক্ষে ৪০ জন।