মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধী ফাঁসি কার্যকর হওয়া জামাতের আমির মতিউর রহমান নিজামী ও দলের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের নামে বরাদ্দ প্লট বাতিল করা হয়েছে।
প্লট পাওয়ার পর পরই সেখানে বহুতল ভবনও গড়ে তোলেন এ দুই যুদ্ধাপরাধী। জামাত সংশ্লিষ্ট মিশন ডেভেলপমেন্ট লিমিডেট নামের একটি প্রতিষ্ঠান এসব প্লটে বহুতল ভবন নির্মাণ করেন।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বেসরকারি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের নামে বরাদ্দকৃত যেসব প্লট বা ফ্ল্যাটে ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি কাজ করেছে তারা তাদের অংশ পাবেন। বাকি অংশ সরকার নিয়ে নেবে।তবে এ ব্যাপারে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে কি-না তা জানা যায়নি।
তবে ঠিক কতজনের নামে প্লট বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে তা জানানো হয়নি। মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছেন, অন্তত দুই জনের প্লট বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে।এদের একজন মতিউর রহমান নিজামী এবং আরেকজন হচ্ছেন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ।
এদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির রায় হওয়ার পর থেকেই তাদের নামে বরাদ্দ পল্ট বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিলো সুশীল সমাজ।
জোট সরকারের শেষ সময়ে ‘রাষ্ট্রীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ’ নিজামী ও মুজাহিদকে রাজধানীর বনানী ও উত্তরায় এই দুটি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়।
মন্ত্রী থাকাকালে রাজউকের মাধ্যমে ২০০৬ সালের ২১ মে বনানীর ১৮ নম্বর রাস্তার ৬০ নম্বরে পাঁচ কাঠার এই প্লট হাতিয়ে নেন মতিউর রহমান নিজামী। প্লটটি ১৯৯৫ সালে আজিজুর রহিমের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যা বাতিল করে দেওয়া হয় নিজামীকে।
নিজামীকে যে প্লটটি বরাদ্দ দেয়া হয় তার আগের বরাদ্দগ্রহীতা আজিজুর রহিম এ নিয়ে পূর্ত মন্ত্রণালয়ে সচিব বরাবর অভিযোগ করলে শুরু হয় তদন্ত।
আজিজুর রহিমের পক্ষ থেকে ওই প্লটের বিপরীতে ৩ লাখ টাকা কিস্তি পরিশোধ করার পরও তা নিজামীকে বরাদ্দ দেয়া হয়।
নিজামী প্লটটি বরাদ্দ পাওয়ার পর জামাত নেতাদের পরিচালিত মিশন ডেভেলপার লিমিটেডের নামে আমমোক্তারনামা দেন, যা রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদিত নয়।
বনানী ঝিলপাড়ে জে ব্লকের ১৮ নম্বরের ওই বাড়িটির নাম ‘মিশন নাহার’। স্ত্রী শামসুন নাহার নিজামীর নামে ভবনের নামকরণ করা হয়েছে-নাহার।
‘রাষ্ট্রীয় কাজে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে’ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ফাঁসি কার্যকর হওয়া জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে রাজউক ৫ কাঠার প্লট বরাদ্দ দেয়।
জামাতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের নামে বিগত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে উত্তরায় পাঁচ কাঠার এ প্লটে ৬তলা ভবন নির্মাণ করেন।
এছাড়াও জামাতের নায়েবে আমির ও আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর নামেও পূর্বাচলে একটি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়।