রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার সময় গাছের আড়ালে আত্মগোপন করে প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন জাপানি নাগরিক তামকি ওতানাবে।
জাপান টাইমস জানায়, ওই হামলায় প্রাণে বেঁচে গেলেও ছিটকে আসা গুলিতে আহত হন তিনি। টোকিওর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলমেক করপোরেশনের ওই কর্মী সেই রাতের বিবরণ দেন।
ওয়াতানাবে জানান, গত ১ জুলাই সন্ধ্যায় গুলশানের হলি আর্টিজানে রাতে খাবার খেতে যান তিনিসহ ৮ জাপানি। খেতে বসার পরপরই হঠাৎ গুলির শব্দে আতঙ্কে সবাই ছোটাছুটি শুরু করেন। জঙ্গিদের এলোপাতাড়ি গুলিতে তার ৭ বন্ধু নিহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান তিনি।
পরদিন-শনিবার ভোরে ৪৬ বছর বয়সী ওয়াতানাবেসহ মোট ১৩ জিম্মিকে উদ্ধার করে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। ওয়াতানাবে জাইকার অধীনে ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজে বাংলাদেশে আসেন।
প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই (শুক্রবার) রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হত্যাযজ্ঞ চালায় জঙ্গিরা। ১২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর জিম্মি সংকটের রক্তাক্ত অবসান ঘটে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেনা নেতৃত্বাধীন সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে। অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের জঙ্গিরা আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছিল।
এ ২০ জনের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি নাগরিক ও ৩ জন বাংলাদেশি। উদ্ধার অভিযানে নিহত হয় আরও ছয় জন। এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম দফা উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। আহত হন কমপক্ষে ৪০ জন।