যুদ্ধাপরাধী জামাতের শীর্ষ চার নেতা নিজামী, মুজাহিদ, সাঈদী ও কামারুজ্জামানের নামে বরাদ্দকৃত সরকারি প্লট বাতিলের কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন যুদ্ধাপরাধীদের সরকারি প্লট বাতিলের ঘোষণা দেয়ার পর বিষয়টি কার্যকর করার এ উদ্যোগ নেয়া হলো।
এদিকে, প্লট বাতিলের খবরে দুঃশ্চিন্তায় পড়ছেন জামাত নেতাদের পরিবারের সদস্যরা। তবে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজী হননি তারা।
যুদ্ধাপরাধীদের নামে বরাদ্দ হওয়া সরকারি প্লট বাতিল করার সিদ্ধান্তের কথা সম্প্রতি গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন জানানোর পরই তার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজউক। এ পর্যায়ে বাতিল হচ্ছে যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্লট।
বিএনপি - জামাত জোট সরকারের শেষ বছর ২০০৫ সালে সেসময় সরকারের শিল্পমন্ত্রী নিজামী ও সমাজ কল্যান মন্ত্রী মুজাহিদের নামে ৫ কাঠা করে দুটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিলো।
কথিত রাষ্ট্রীয় কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ ২০০৬ সালে বনানী জে-ব্লকে প্লট বরাদ্দ পান নিজামী। লেকের পাড় ঘেঁষা ১৮ নম্বর সড়কের ৬০ নম্বর বাড়ীর এই প্লটটিতে ‘মিশন নাহার’ নামে ৭ তলা ভবন নির্মাণ করে জামাতপন্থী ডেভেলপার কোম্পানি মিশন ডেভেলপমেন্ট।
যদিও প্রথমে এ প্লটটি প্রবাসী কোটায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ব্যবসায়ী আজিজুর রহমানকে। এখন ভবনটিতে বাস করেন নিজামীর পরিবার। তাদের দখলে রয়েছে ৬টি ফ্ল্যাট, আর ডেভেলপার কোম্পানীর রয়েছে আরো ৬টি ফ্ল্যাট। এসব ফ্ল্যাটের বেশিরভাগই ভাড়া দেয়া হয়েছে।
আরেক যুদ্ধপরাধী মুজাহিদকে প্লট দেওয়া হয় উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে। এ সেক্টরের ১০ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাড়ীতে ৬ তলা ভবন নির্মিত হয়েছে। নাম দেয়া হয়েছে ‘মিশন তামান্না’। অর্ধেক ভাগাভাগির চুক্তিতে এ ভবনটিও নির্মাণ করে মিশন ডেভেলপমেন্ট।
ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় থাকেন মুজাহিদের পরিবারের সদস্যরা। প্লট বাতিলের খবরে এর বাসিন্দারা অস্বস্তিতে রয়েছেন বলে জানান বাড়ির কেয়ারটেকার।
যুদ্ধাপরাধের দায়ে এরই মধ্যে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে নিজামী ও মুজাহিদের।
আমৃত্যু কারাদণ্ড ভোগকারী আরেক যুদ্ধাপরাধী সাঈদীকে জোট সরকার ৭ কাঠার প্লট বরাদ্দ দিয়েছিল পূর্বাচলে। রাজউক জানিয়েছে, প্লট পেলেও সাঈদী ১০ বছর ধরে এর কোনো কিস্তির টাকা পরিশোধ করেননি।
এছাড়া ফাঁসি কার্যকর হওয়া আরেক যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামানকে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে সাংবাদিক কলোনীতে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ৩ কাঠার এই প্লটটিতে কামারুজ্জামানও বাড়ি নির্মাণ করেছেন।