সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূলে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটোরে শেষ হলো এশিয়া-ইউরোপ মিটিং-আসেম এর একাদশ শীর্ষ সম্মেলন।
সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে উলানবাটোর ঘোষণায় এ অঙ্গীকার করেন বিশ্ব নেতারা।
এ ঘোষণায় আসেম নেতারা এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা আরো বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
আসেম সম্মেলনে যোগদান শেষে স্থানীয় সময় বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটোরে এশিয়া-ইউরোপ মিটিং (আসেম) শীর্ষ সম্মেলনে প্রথম দিনের দ্বিতীয় অধিবেশনে তার বক্তৃতায় সমৃদ্ধির জন্য কৌশলগত সুযোগ হিসেবে আন্তঃদেশ ও জাতির মধ্যে কানেক্টিভিটিকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ সময় বিশ্ব্যব্যাপী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্য কানেক্টিভিটিকে কাজে লাগাতে আসেম নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী এদিন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ ও ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো জেনটিলনি সেলভেরির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
‘আসেম-এর ২০ বছর: কানেক্টিভিটির মাধ্যমে ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে মঙ্গোলিয়ায় রাজধানী উলানবাটোরের হোটেল শাংরি-লায় শুরু হয় ১১তম আসেম শীর্ষ সম্মেলন।
আসেমভুক্ত ইউরোপ ও এশিয়ার ৫১টি দেশ এবং দুটি আন্তঃসরকার সংগঠনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিয়েছেন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট, শ্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী, নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষণ দেন দ্বিতীয় প্লানারি সেশনে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব্যব্যাপী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সব দেশ ও জাতির মধ্যে স্বচ্ছন্দ চলাচল এবং সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন। সমৃদ্ধির জন্য কৌশলগত সুযোগ হিসেবে তিনি কানেক্টিভিটিকে কাজে লাগানোরও আহবান জানান তিনি।
এদিকে, শীর্ষ সম্মেলনের আগে মঙ্গোলিয়ায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক হয়।
এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী গুলশান হামলার তীব্র নিন্দা জানান। সন্ত্রাস মোকাবেলায় জাপান ও বাংলাদেশ একযোগে কাজ করবে বলেও অঙ্গীকার প্রকাশ করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, যারা ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তাদের শিকড় খুঁজে বের করা হবে। বাংলাদেশে জাপানি নাগরিকসহ বিভিন্ন সেক্টরে যেসব বিদেশী কাজ করছেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গেও বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। এ সময় সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রয়োজনীয় ট্যাকনিক্যাল ও অন্যান্য সহযোগিতা দেয়ার প্রস্তাব দেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
রাশিয়াকে বন্ধুপ্রতীম দেশ হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন সন্ত্রাস বিরোধী লড়াইয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে সহযোগিতা নিতে বাংলাদেশ দ্বিধা করবে না।
এদিকে, ইতালির পরর্ষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো জেনটিলনি সিলভেরির সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অপশক্তির মোকাবেলা করবে।এসময় গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে ইতালির পররাস্ট্রমন্ত্রী বলেন ইতালি ও বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। গুলশানের ঘটনা দুদেশের সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারবে না।
এছাড়াও সম্মেলনের ফাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ইয়োহান স্নেইডার আম্মানসহ অন্যান্য নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তাদের সম্মানে মঙ্গোলিয়া সরকারের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।