শূন্যপদ পূরণসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৯ হাজার ৬১৬টি পদে নার্স নিয়োগ দেবে সরকার— এ নিয়োগের জন্য বিদ্যমান নিয়োগ প্রক্রিয়া শিথিল করা হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে নার্স নিয়োগ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়া হয়।
ইতোমধ্যে নার্স নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশ জারিসহ আনুষঙ্গিক কাজ শুরু করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
পরে বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, সিনিয়র স্টাফ নার্স সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ কোটার পদ পূরণ না হলে মেধা তালিকা থেকে তা পূরণ করার ব্যাপারে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নার্স নিয়োগ প্রক্রিয়া শিথিলের পাশাপাশি কোটা পদ্ধতি বাতিলেরও প্রস্তাব করা হয়েছিল।
মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য পাঠানো সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) গত ২৮ মার্চ ৩ হাজার ৬১৬টি সিনিয়র স্টাফ নার্সের শূন্য পদ পূরণের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ইতোমধ্যে ১৮ হাজার ৬৩টি আবেদন জমা পড়েছে।
এর আগে কমিশন বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে, এমনকি বিসিএস পরীক্ষায় কারিগরি বা পেশাগত পদগুলো পূরণের ক্ষেত্রে প্রাধিকার বা বিশেষ কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় কোটাসংক্রান্ত সব শূন্য পদ পূরণ করতে পারেনি।
সেক্ষেত্রে সরকারের স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিতকরণের এবং প্রধানমন্ত্রীর নার্স নিয়োগসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের জন্য পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন ও নিয়োগ প্রক্রিয়া শিথিল করা দরকার।
জানা গেছে, বর্তমানে সারাদেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করার জন্য ১৩ হাজার নার্স প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, পিএসসি পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করে নিয়মিত নার্সদের মধ্য থেকে হাসপাতালে নিয়োগের দাবিতে চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রায় তিন মাস আন্দোলন করেছিলেন বেকার নার্সরা। প্রায় একমাস ধরে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। সেইসঙ্গে ৩ দিন অনশন কর্মসূচিও পালন করেছেন আন্দোলনরত নার্সরা।
আন্দোলন চলাকালে শাহবাগে পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন কেউ কেউ। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে গত মে মাসে নার্সদের আন্দোলন বন্ধ হয়।