সপরিবারে নিখোঁজ ঢাকার একজন চিকিৎসক পরিবারের সদস্যদের একজন নাঈমা আক্তারের সবশেষ কর্মস্থল ছিল যশোর সরকারি এমএম কলেজ। সেখানে কর্মরত অবস্থায় ৪৬ দিনের ছুটি নিয়ে চলে যান তিনি।
তিনি যে আর ফিরবেন না সে ব্যাপারেও কলেজ কর্তৃপক্ষকে কিছু জানাননি। কলেজের অধ্যক্ষের ধারণা নাঈমা সিরিয়ায় আইএসে যোগ দিয়েছেন।
যশোর সরকারি এমএম কলেজে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন নাঈমা আক্তার। এর আগে তিনি রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে কর্মরত ছিলেন।
এম এম কলেজে তিনি উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের শিক্ষিকা ছিলেন। যোগ দেয়ার ৬ মাস পর তিনি বিদেশ ভ্রমণের কথা বলে ২০১৫ সালের ১৩ জুলাই ৪৬ দিনের ছুটি নেন। তার ছুটি শেষ হলেও এখন পর্যন্ত তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি।
নাঈমা আক্তারের না ফিরে আসার বিষয়টি কলেজের সে সময়ের অধ্যক্ষ শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে অবহিত করেছিলেন। বর্তমান অধ্যক্ষ বলছেন তিনি সপরিবারে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন।
নাইমা আইএসে যোগ দিয়েছেন এমন আশঙ্কা করছেন যশোর সরকারি এম এম কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক মিজানুর রহমান।
নাঈমার অপর সহকর্মীরা বলেন, তিনি বেশভুষায় বেশ আধুনিক হলেও হঠাৎ করেই হিজাব পড়া শুরু করেন। ইসলাম শান্তির ধর্ম হলেও কথা বলতেন জিহাদের পক্ষে।
তিনি ক্লাসের প্রতি মনোযোগী এবং বেশ মিশুক স্বভাবের ছিলেন। এমন একজন শিক্ষিকা সপরিবারে আইএসে যোগ দিয়েছেন বলে প্রচার হওয়ায় হতবাক যশোরের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাই।
নাঈমা আক্তারের স্বামী ঢাকা শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক রোকনুদ্দীন রাজধানীর খিলগাঁও চৌধুরীপাড়ায় থাকতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে ধারণা করা হচ্ছে তাদের দুই মেয়ে রেজওয়ানা রোকন, রামিতা রোকন ও জামাতা সাদ কায়েসকে নিয়ে তারা সিরিয়া চলে গেছে।