অতীতের অগণতান্ত্রিক সরকারের কারণে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক।
বুধবার সকালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্রাটেজিক অ্যান্ড স্টাডিজ-বিআইআইএসএসে আয়োজিত গণতন্ত্রে সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক বিষয়ক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
জঙ্গি প্রতিহত করতে নতুন নতুন কৌশল বের করতে সরকারকে পরামর্শ দেন এ বিশিষ্টজনেরা।
তারিক আহমেদ বলেন, বিভিন্ন সময়ে অগণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার কারণেই দেশ জাতীয় স্বার্থ সংকটে পড়েছে। যার নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পড়েছে বলে জানান তিনি।
নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় গণতন্ত্রের অভাবে জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে। যার ফলে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেয়েছে। যা আমরা এখন লক্ষ্য করছি।’
সামরিক-বেসামরিক সম্পর্কে গণমাধ্যমের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, সামরিক বাহিনীর তথ্য গোপনের প্রয়াস আছে— আর গণমাধ্যম সে বিষয় প্রচারে আগ্রহী থাকার ফলে এই দুই পর্যায়ের সর্ম্পকে সুফল নেই।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর আরেক উপদেষ্টা গহওর রিজভী বলেন, গুলশানের সহিংসতা মোকাবেলার মধ্য দিয়ে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছে— এরমধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে সন্ত্রাসীদের কোনও স্থান এদেশে হবেনা।
তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে জাতীয় স্বার্থে দেশের সর্বস্তরের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং জয়লাভ করেছে। আজ আবার সময় এসেছে জাতীয় ঐক্যের। আশা করছি একাত্তরের মতো এবারও সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমরা জয়ী হবো।’
এ সময় বাংলাদেশে প্রায় সব ক্ষেত্রেই অপেশাদারিত্বের চর্চা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ। সুশাসন বা আইনের শাসন না থাকায় এর প্রভাব সবক্ষেত্রেই পড়ছে বলেও জানান তিনি।
সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত কৌশল পরিবর্তন করছে— উল্লেখ করে ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিরোধের কৌশল পরিবর্তনের বিষয়ও সরকারকে ভাবতে হবে।
‘ব্যবসা-বানিজ্য, সরকারি-বেসরকারি সব ক্ষেত্রেই অপেশাদারিত্ব লক্ষ্য করছি। এটি এখন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে— যার ক্ষতিকর প্রভাব নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও দেখি। সন্ত্রাসীদের সুইসাইড স্কোয়াডের বিরুদ্ধেও সরকারকে নতুন কৌশল অবলম্বন করতে হবে’ বলে জানিয়েছেন এই আন্তর্জাতিক বিশ্লষক।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও সামরিক-বেসামরিক সর্ম্পক শক্তিশালীকরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন আলোচকরা। সেমিনারে নৌ, সেনা, বিমান বাহিনীর প্রধানগন ছাড়াও তিনবাহিনীর জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা, রাষ্ট্রদূত এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বিশ্লেষকরা উপস্থিত ছিলেন।