আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রাজধানীর কূটনৈতিক ও আবাসিক এলাকা গুলশান, বনানী ও বাড়িধারার অনুনমোদিত সকল বাণিজ্যিক ও অনাবাসিক প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন এ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভাপতি স্থানীয় সরকার সচিব আব্দুল মালেক।
বুধবার সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, শিগগিরই শুরু হচ্ছে উচ্ছেদ অভিযান— তবে তা ধাপে ধাপে পরিচালিত হবে।
পর্যায়ক্রমে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে অন্যান্য আবাসিক এলাকাতেও—উল্লেখ করে সচিব বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ও এর আওতায় পড়বে।
এদিকে, রাজউকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী আগামী ২৫ জুলাই থেকে গুলশান এলাকায় এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হতে পারে। এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চেয়ে রাজউক থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে।
রাজউকের তথ্য মতে, উচ্ছেদ অভিযানের প্রাথমিক ধাপে এরই মধ্যে সকল আবাসিক এলাকা থেকে অনুমোদনহীন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
এতে আরো বলা হয়েছে, নিজ উদ্যোগে সরিয়ে না নিলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে, সরকারের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এসব এলাকার রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা বলছেন, বিকল্প ব্যবস্থা না করে এমন সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন যুক্তিযুক্ত নয়।
এছাড়া রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী-কর্মচারীদের পাশাপাশি আগত বিদেশি অতিথিদের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়বে বলেই আশংকা করছেন তারা।
গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে ১৭জন বিদেশিসহ ২৩ জনকে হত্যা করে জঙ্গীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি দূতাবাসের খুব কাছে অবস্থিত এ রেস্তোরাঁটির কোনো বৈধ অনুমোদন ছিল না। এরপর থেকেই সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রাজধানীর আবাসিক ও কূটনৈতিক এলাকা থেকে অনুমোদনহীন বাণিজ্যিক ও আবাসিক ছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদে তৎপর হয়। শুরু হয় তালিকা তৈরির কাজ। রাজউকের করা এই তালিকা অনুযায়ী গুলশান ও বারিধারা এলাকায় হলি আর্টিজানের মতো অবৈধ বাণিজ্যিক স্থাপনা আছে ৫৫২ টি।