বাংলাদেশ দখল করার কোনো ইচ্ছা যুক্তরাষ্ট্রের নেই—ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দেয়া এমন বক্তব্য সন্দেহ সৃষ্টি করেছে বিশ্লেষকদের মধ্যে। এ বক্তব্যের সমালোচনা করে সংসদেও আলোচনা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের বক্তব্য বাংলাদেশে মার্কিন আধিপত্য প্রতিষ্ঠার গোপন অভিলাষের বহিঃপ্রকাশ হয়ে থাকতে পারে আর সে ধরনের কোনো ইচ্ছা না থাকলে, তা কাজে প্রমাণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। কেননা এ ধরনের মন্তব্য বাংলাদেশের প্রতি অবজ্ঞাও।
গত বুধবারের সংসদ অধিবেশন—বাংলাদেশ নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাটের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন সরকারি দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, বাংলাদেশ দখল তারা করবেন না। সাহায্য করার চেষ্টা করবেন। এ কথায় মনে হলো, ইচ্ছা করলে তারা দখল করতে পারেন, আবার দখল বহালও রাখতে পারেন। এ ধরণের হুমকি আমেরিকানরা দিচ্ছেন, যা শোভনীয় নয়।
তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে, শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি নাইট ক্লাবে ৫০ জন খুন হয়েছে। তাহলে কী বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র দখল করতে যাবে- এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।
বাংলাদেশে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স-এ্যামচ্যামের মাসিক ভোজ সভায় গত বুধবার, রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট লিখিত বক্তব্যে বলেন, অনেকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সহায়তার আড়ালে বাংলাদেশকে দখল, নিয়ন্ত্রণ এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করবে; কোনো উপায়েই এ দেশকে দখল করার কোন উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সহয়তা হবে একজন অংশীদারের মত।
রাষ্ট্রদূতের এমন বক্তব্য সহজভাবে নিচ্ছেন না বিশ্লেষকরাও। এ বক্তব্যের পরে, বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ দানা বাধছে তাদের মনে।
বাংলাদেশে যদি যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার কোনো ইচ্ছা না থাকে, তাহলে তা কাজ দিয়ে প্রমাণ করা উচিত। রাষ্ট্রদূতের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন কেউ কেউ।
তাদের মতে, এ ধরণের বক্তব্য দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি আঘাত। ভবিষ্যতে কেউ যেন এমন মন্তব্য করতে সাহস না পায়, সে বিষয়ে এখনই পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি পরামর্শ তাদের।