টিআর ও কাবিখা প্রকল্পে চুরির জন্য সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধি ও আমলাদের দায়ী করে বক্তব্য দেয়ার পর দুঃখপ্রকাশ করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তবে তার বক্তব্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে সংসদ সদস্যদের মধ্যেও। প্রধানমন্ত্রী নিজেও তথ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন।
একেতো জাসদ বিভক্তি, তার ওপর তাকে নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের মন্তব্যে তিনি আলোচনার শিরোনামে ছিলেন। এর রেশ না কাটতেই নিজের আরেক মন্তব্যে আবারও আলোচনায় আসলেন ইনু।
রোববার ঢাকায় পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের এক সম্মেলনে টিআর ও কাবিখা নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, দরিদ্রদের জন্য সরকারের বরাদ্দ করা টিআর-কাবিখার অর্ধেক সংসদ সদস্যরা চুরি করে, বাকিটা অন্যরা ভাগাভাগি করে। সব সংসদ সদস্য না করলেও অনেকেই করেন।
তার এ মন্তব্যে আবারও সমালোচনার ঝড় ওঠেছে। সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে মূল আলোচনার পর তিনি মন্ত্রণালয়ের লোগো সংবলিত খামে একটি বিজ্ঞপ্তি সভার সদস্যদের পৌঁছে দেন যার শিরোনাম ছিল ‘তথ্যমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ’।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘টিআর-কাবিখা প্রসঙ্গে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে কোন ভুল বোঝাবুঝি হলে বা কেউ দুঃখ পেয়ে থাকলে তা অনভিপ্রেত’। সেখানে ইনু আরও উল্লেখ করেন যে, নিজে সংসদ সদস্য হিসেবে সব সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের তিনি সম্মান করেন। এরপরও কেউ দুঃখ পেলে তিনিও আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
তার বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় মন্ত্রিসভায় বৈঠকে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তীর ছেড়ে দিলে ও মুখের কথা বেরিয়ে গেলে ফিরে আসে না।‘
এ সময় অন্য সদস্যরা বলেন, তথ্যমন্ত্রী কাউকে দুঃখ দিতে চাননি এ কথা বলার সুযোগ নেই কেননা তিনি যা বলার বলে ফেলেছেন, সবার সম্মান তিনি ক্ষুন্ন করেছেন। তথ্যমন্ত্রীর অভিযোগ সত্য হলে পদত্যাগ করার কথাও বলেন কেউ কেউ।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে নিয়মিত আলোচনায়, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন আইন ২০১৬ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একটি পরিচালনা পর্ষদ চালাবে এই করপোরেশন। করপোরেশনের ৫১% মালিকানা হবে সরকারের, বাকিটা বেসরকারি মালিকানার।
এ ক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডারকে বাংলাদেশের নাগরিক ও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা থাকা যাবে না।
মালিকানা পেতে ন্যূনতম শেয়ার কতো হবে তা নির্ধারণ করবে সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। আর ন্যূনতম শেয়ার ১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হয়েছে।