এক বছর আগে জঙ্গিদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়— উল্লেখ করে হাসান জানিয়েছে, সে ওই বাসায় রান্নার কাজ করতো। মেসে তারা ১১ জন ছিলো এবং কল্যাণপুরের ওই মেসটি তারা ঈদের পর ভাড়া নেয়।
মঙ্গলবার কল্যাণপুরে অপারেশন ‘স্টর্ম টুয়েন্টি সিক্স’ অভিযানে জঙ্গি সন্দেহে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক আহত হাসান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য দেন।
হাসান জানিয়েছে, তার বাড়ি বগুড়ার জীবন নগরে। সে বগুড়া শাহ সুলতান কলেজের ছাত্র বলেও দাবি করেছে।
গত এক মাসের মধ্যে তাকে ভবন থেকে নিচে নামতে দেয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
এর আগে, সকালে হাসান নিহত ৯ জন জঙ্গির পরিচয় নিশ্চিত করেন।
সকালে হাসানের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া আজিজুল নামে এক ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ তাকে আটক করেছে। আটক আজিজুলকে শাহবাগ থানায় রাখা হয়েছে।
এদিকে, ‘জঙ্গি আস্তানায়’ পুলিশের যৌথ অভিযানকালে আহত অবস্থায় আটক হাসানের প্রকৃত নাম রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান। তার বাড়ি বগুড়া শহরের সরকারি আজিজুল হক কলেজ–সংলগ্ন জামিলনগরে। তিনি এক বছর ধরে নিখোঁজ ছিলেন।
জানা গেছে, রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যানের বাবা রেজাউল করিম মারা গেছেন। তার মা রোকেয়া আক্তার নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ নার্স। তার এক বোন রয়েছে।
মায়ের ভাষ্য মতে, ছেলে ২০১৩ সালে করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেছে। সরকারি শাহ সুলতান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছে ২০১৫ সালে। এরপর মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য বগুড়া শহরে রেটিনা কোচিং সেন্টারে তাকে ভর্তি করা হয়।
গত বছরের জুলাইয়ে ছেলে নিখোঁজ হয় দাবি করে মা বলেন, বগুড়া সদর থানায় তখনই তিনি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
মায়ের দাবি, ছেলের সঙ্গে এক বছর ধরে কোনো যোগাযোগ নেই তার।