আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে থাকা নিখোঁজের তালিকার বাইরে অনেকই ভয়ংকর জঙ্গি তৎপরতায় লিপ্ত— রাজধানীর কল্যাণপুরের পুলিশি অভিযানে নিহত-আহতদের অনেকের তথ্যও ছিল না তাদের কাছে থাকা তালিকায়।
আগের জঙ্গি হামলার চেয়ে বর্তমান হামলার ধরণ পাল্টে যাওয়ায় এসব হামলা প্রতিরোধ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চ শিক্ষিত ও উচ্চ বিত্ত পরিবারের বিপথগামী তরুণদের জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ও প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পহেলা জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজানে নজিরবিহীন জঙ্গি হামলায় ১৭ জন বিদেশি নাগরিক ও ২ জন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২২ জন নিহত হন। পরের দিন সকালে সশস্ত্র বাহিনীর কমাণ্ডো অভিযানে হামলাকারী ৫ জঙ্গিসহ ছয়জন মারা যায়। জিম্মি অবস্থা থেকে ১৩ জনসহ উদ্ধার করা হয় ৩২ জনকে।
এক সপ্তাহ পর কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতের আগে তল্লাশিযর সময় বাধা পেয়ে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে পুলিশের দুই সদস্য ও পুলিশের প্রতিরোধের সময় একজন জঙ্গিসহ এলাকাবাসী এক নারী নিহত হন।
এরপর ১৮ দিন পর সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর কল্যাণপুর এলাকায় একটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ। এতে ৯ জঙ্গি মারা যায় ও এক সন্দেহভাজন জঙ্গিকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়। বড় ধরণের কোনো সহিংস হামলার প্রস্তুতির আগেই গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়।
গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করে ঘটনা দুটির পিছনে একই চক্রের সদস্যরা কাজ করেছে। কল্যাণপুরের জঙ্গি সন্দেহে নিহতরাও একই গোষ্ঠীর বলেও মত তাদের।
পুলিশ বলছে, ৩ ঘটনায় নিহতরা সবাই তরুণ— এদের অনেকেই দীর্ঘ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না। তাদের অনেকেরই পারিবারিক অবস্থা ভালো এবং পড়াশুনা করেছেন ইংলিশ মিডিয়ামে কিংবা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে।
জঙ্গিদের আগের পরিসংখ্যান ও তথ্য বলছে নতুন এসব হামলার পরিকল্পনায় জড়িতরা একবারেই আলাদা।
আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে থাকা নিখোঁজ তালিকার বাইরের অনেকই ভয়ংকর এসব জঙ্গি তৎপরতায় লিপ্ত। রাজধানীর কল্যাণপুরে পুলিশি অভিযানে হতাহতদের অনেকের তথ্যও ছিলনা ওই তালিকায়।
এখন নতুন করে জঙ্গিদের গতিবিধি তদারকি করা ও হামলার আগেই তা প্রতিহত করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।