রাজধানীর কল্যাণপুরে নিহত নয় জঙ্গির একজন দিনাজপুরের মোতালেব ওরফে আব্দুল্লাহ। জঙ্গি কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্তার খবর শুনে তার মৃতদেহ গ্রহণ না করার কথা জানিয়েছে তার পরিবার।
এদিকে, এই খবরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তার মা।
আব্দুল্লাহ দিনাজপুর ও নওগাঁর মাদ্রাসার পর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসায় ১ম বর্ষে পড়াশোনা করতো।
পরিবারের লোকজন জানিয়েছে, লেখাপড়ার অজুহাতে এক বছর ধরে বাড়িতে আসেনি আব্দুল্লাহ। মাঝে মধ্যে মোবাইল ফোনে কথা বলতো সে।
তবে আব্দুল্লাহ'র জঙ্গি কর্মকাণ্ড নিয়ে পুলিশের কাছে কোন তথ্য ছিল না। তার বাবা ও ভাইকে ডিএনএ টেস্টের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
নিহত আরেক জঙ্গি সাতক্ষীরার মতিয়ার রহমান। দেড় বছর ধরে নিখোঁজ থাকলেও তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোন জিডি করা হয় নি।
তিন বছর বয়স থেকেই মতিয়ারকে নিয়ে তার মা কাটাখালির নানাবাড়িতে থাকতেন। বর্তমানে তার মা গৃহকর্মীর ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে কাজ করছেন।
২০১৫ সালে ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করবেন বলে বাড়ি ছেড়েছিল মতিয়ার। এরপর থেকে কারো সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না।
নিখোঁজের আগে মাঝে মধ্যে দাদার বাড়িতে গিয়ে ধর্ম নিয়ে আলোচনা করতো বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গির আরেকজন টাঙ্গাইলের মধুপুরের আবু হাকিম নাঈম। সে ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত পটুয়াখালীর কুয়াকাটার একটি হাউসিং সোসাইটির কর্মচারী ছিল।
মঙ্গলবার রাত ভোর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভোরে ‘অপারেশন স্টর্ম ২৬’ চালায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথদল। এ অভিযানে নিহত হয় ৯ জঙ্গি। পরে বিকেলে জঙ্গিদের মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করতে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায় পুলিশ।