সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক আশ্রয়েই জঙ্গি কর্মকাণ্ড বাড়ে উল্লেখ করে সর্বস্তর থেকে এর আশু প্রতিরোধ প্রয়োজন বলে মনে করেন ধর্মীয় নেতারা।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের কারণ সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট— এ সময় গুলশান ও শোলাকিয়ার ঘটনার উল্লেখ করে মেজর জেনারের (অব.) আব্দুর রশিদ বলেন, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসের প্রভাব দেখা গেলেও বাংলাদেশে এ নজির প্রথম। এ সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘বিগত দিনের সন্ত্রাস বা জঙ্গিদের কর্মকাণ্ড থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে লেখক, ব্লগার, কবি, সাহিত্যিক, সংখ্যালঘু এবং বিদেশি নাগরিকদের হত্যাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। বিপরীত দিকে, বিএনপি-জামাতের কোনো ব্যক্তিকেই এখন পর্যন্ত এসব হত্যাকাণ্ডের লক্ষ্য হতে দেখা যায়নি। এ জন্যই শুধু নিরাপত্তাই না, সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
সমাজের একটা শ্রেণী মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষ হত্যা করছে বলে উল্লেখ করেন কিশোরগঞ্জ শোলাকিয়ার ইমাম আল্লামা ফরিদ উদ্দীন মাসঊদ।
তিনি বলেন, জঙ্গিরা ইসলামের যেসব উদ্ধৃতির বিকৃতভাবে তুলে ধরে হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে, তা খণ্ডিত এবং সঠিক নয়।
এ বিষয়ে পরিস্কার ধারণা দিতে আলেম-ওলামাদের প্রতি আহ্বান জানান কিশোরগঞ্জ শোলাকিয়ার এ ইমাম।
সরকার সন্ত্রাস দমনে এরইমধ্যে বিদেশি নাগরিকদেরসহ দেশের সার্বিক নিরাপত্তা বাড়িয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী বলেন, এ কাজে বন্ধুপ্রতিম অনেক দেশই বাংলাদেশকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে।
ঐক্যবদ্ধ থাকলে এ কাজে সফলতা আসবে— উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ব্যহত করে বিদেশে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই এ ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। গুলশান-শোলাকিয়া এবং কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় তরিৎ অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে সরকার। সকলের সহযোগিতায় সরকার বাংলাদেশ থেকে পুরোপুরিভাবে সন্ত্রাস নিমূর্লেও সফল হবে।’