বদলে যাচ্ছে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোড—সরিয়ে নেয়া কারাগারের খালি জায়গায় কারা কর্তৃপক্ষ তৈরি করবে কনভেনশন সেন্টার, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত থিয়েটার ও হাঁটাচলার খোলামেলা পরিবেশ।
জাতীয় চারনেতার সেল ও বঙ্গবন্ধুর সেলটি সংরক্ষণের পাশাপাশি তৈরি হবে দুটি জাদুঘর। আর কারাগারের খালি জায়গায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মেডিকেল সেন্টার ও শপিংমল তৈরির দাবি স্থানীয়দের। সাবেক কারাগারের চারপাশের সড়ক প্রসস্থ করার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা দূর করার দাবি স্থানীয় কাউন্সিলরদের।
কারা-মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন বলেন, এখানে অনেক কিছুই হবে— ভেতরে দুটি মিউজিয়াম এবং নানা ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে। সেই ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণ করার পাশাপাশি একটি নতুন নকশায় বিনোদনের স্থান তৈরি করা হবে।
এর বাইরে কনভেনশন সেন্টার, কিছু ডিপার্টমেন্টাল স্টোর এবং কিছু উন্মুক্ত নাট্যমঞ্চ এবং শিশুদের খেলাধুলার, হাঁটাচলার জন্য খোলামেলা জায়গা থাকবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, এসব বাস্তবায়নে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্ট এবং ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সহযোগিতায় আমরা একটি ওপেন কম্পিটিশনে যাচ্ছি; ডিজাইন কম্পিটিশন। ওপেন কম্পিটিশনে যে ডিজাইনটা প্রথমস্থান অধিকার করবে তাদেরকে এই কাজের কনসালটেন্সি করার দায়িত্ব দেয়া হবে। এরই মধ্যে ডকুমেন্টেশন প্রস্তুত হয়েছে। হয়তো আগামী এক মাসের মধ্যে তা পত্রিকায় চলে যাবে।
অবশেষে সরিয়ে নেয়া হলো বহুল আলোচিত নাজিম উদ্দিন রোডের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার। শুক্রবার সারাদিন সব বন্দিকে নিয়ে যাওয়া হয় ১২ কিলোমিটির দূরে নতুন কারাগার কেরানীগঞ্জে।
পুরান কারাগারটি ঘিরে স্থানীয়দের কৌতুহল কি হতে যাচ্ছে সেখানে? তারা বলছেন, এই এলাকার বহুদিনের সমস্যা যানজট। এছাড়া, খোলামেলা পরিবেশের পাশাপাশি রয়েছে খেলার মাঠের অভাব।
আর ব্যবসায়ীরা বলছেন, যানজটের কারণে বেঁচাকেনায় যে সমস্যা হতো রাস্তা প্রসস্থ হলে তেমন আর হবে না।
স্থানীয় দুটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা বলেন, প্রায় ১৮ একর খালি জমিতে বিনোদন কেন্দ্রের পাশাপাশি খেলার মাঠ রাখা খুবই প্রয়োজন। এছাড়া, পুরানো ঢাকার ঐতিহ্য নিয়ে একটি জাদুঘর তৈরির দাবি জানান তারা।
এদিকে, এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কারাগারের খালি জায়গাটিকে ঘিরে বিশদ পরিকল্পনা।
আইজি প্রিজন জানান, কারা কর্তৃপক্ষের অধিনেই এই স্থানে বিভিন্ন উন্নয়ন করা হবে— একটি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেয়া হবে নকশা তৈরি কাজ। এতে যারা প্রথম হবেন, তারাই পাবেন এই উন্নয়ন কাজ।
শত বছরের এই কারাগার সরিয়ে নেয়ার পর নাজিম উদ্দিন রোডের বাসিন্দারা চাইছেন নতুন কিছু হোক তাদের উন্নয়নের জন্য। যেখান থেকে তারা হবেন উপকৃত। আর আগামী প্রজন্মও জানতে পারবে ইতিহাস-ঐতিহ্য।