রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত তারকা হোটেলগুলো উচ্ছেদ আতঙ্কে ভুগছে— আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিস না পেলেও রাজউকের অনুমোদনহীন ৫৫২টি স্থাপনার তালিকায় থাকায় এ আতঙ্ক কাজ করছে।
তারকা হোটেলের কর্ণধাররা জানান, বর্তমান স্থানে থেকেই তারা সরকারের যাবতীয় নির্দেশনা মেনেই কার্যক্রম চালাবেন তারা।
আর যদি উচ্ছেদ হতেই হয় তাহলে দীর্ঘ সময় দিয়ে উপযুক্ত বিকল্প স্থান ও প্রয়োজনীয় যাবতীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তারা।
আবাসিক এলাকায় রাজউকের অনুমোদনহীন অনাবাসিক যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ ও উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেয় সরকার। বাস্তবায়নও হচ্ছিল ঢিমেতালে। তবে গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পরপরই রাজউকের তৎপরতা বেড়ে যায়। শুধু গুলশানেই অনুমোদনহীন ৫৫২টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা করে রাজউক আর নোটিস দিয়ে দিয়ে উচ্ছেদও করছে।
এ অবস্থায় গুলশানের বেশ কয়েকটি তারকা হোটেল ও দুটি স্কুলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের উচ্ছেদের বিষয়ে বিভিন্ন মেয়াদে স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। নোটিস না পেলেও সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে উদ্বিগ্ন হয়ে তাদের এ পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার এ সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের উদ্বেগ তুলে ধরে তারকা হোটেল মালিকদের সংগঠন-বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন।
এ সময় বক্তারা বলেন, বর্তমান জায়গা থেকে কার্যক্রম চালিয়ে সরকারের প্রয়োজনীয় নির্দেশ মেনে চলবেন।
যদি নিজেদের অবস্থান থেকে সরতেই হয় তবে সরকার যেন পর্যাপ্ত সময় দিয়ে বিকল্প উপায়ের ব্যবস্থা করে সে বিষয়েও নজর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই (শুক্রবার) রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হত্যাযজ্ঞ চালায় জঙ্গিরা। ১২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর জিম্মি সংকটের রক্তাক্ত অবসান ঘটে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেনা নেতৃত্বাধীন সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে। অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের জঙ্গিরা আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছিল।
এ ২০ জনের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি নাগরিক ও ৩ জন বাংলাদেশি। উদ্ধার অভিযানে নিহত হয় আরও ছয় জন। এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম দফা উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। আহত হন কমপক্ষে ৪০ জন।