পদ্মাসেতু নির্মাণের জন্য ইস্পাতের প্রায় তিন হাজার টন ওজনের প্রথম স্প্যান (সেতুর উপরিঅংশ) মাওয়ায় পৌঁছেছে –জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ল্যাব টেস্টসহ অন্যান্য পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর আগামী ডিসেম্বরে পিয়ারের (পিলার) উপর এটি স্থাপন করা হবে— আর এবছর দুটি স্প্যান স্থাপনের পর আগাম বছরে আরো দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে যাবে।
কাদের বলেন, প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার আর প্রতিটি স্প্যানের আনুমানিক ওজন দুই হাজার ৯০০ টন—মূল সেতুর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঠামোয় মোট ৪১টি স্প্যান থাকছে।
তিনি আরো বলেন, চীনের ফ্যাক্টরিতে ২০ থেকে ৮০ হাজার মিলিমিটার পুরু স্টিলপ্লেট কেটে ওয়েলডিং করে প্রতিটি মেম্বার তৈরি করা হচ্ছে এবং এ ধরনের ১২৯টি মেম্বার দিয়ে একটি স্প্যান গঠিত হয়। এ পর্যন্ত ২৬টি পাইলের কাজ সম্পন্ন হয়েছে আর জাজিরা প্রান্তে ভায়াডাক্টের পাইলের কাজ শুরু হয়েছে।
সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাপানি নাগরিকসহ সকল বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেল রুট-৬ বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরামর্শকসহ নির্মাণ কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের কর্মস্থল এবং বাসস্থানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বিধানের ব্যবস্থা নেয়া হয়ছে।
এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান-এর সাথে টেলিফোনে জাপানী নাগরিকসহ সকল বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে কথা বলেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মেট্রোরেল রুট-৬ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা বিষয়ক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলীল, ডিটিসিএ’র নির্বাহী পরিচালক মো. কায়কোবাদ হোসেন, মেট্রোরেল প্রকল্প পরিচালক মো. মোফাজ্জেল হোসেন, ঢাকায় নিযুক্ত জাইকা’র সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ মি. তাকু ইয়াম্বে, মেট্রোরেল রুট-৬ বাস্তবায়ন কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট টোকিও কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লি.-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মি. হিরোশী আসাকামি, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিপ্পন কোয়ে’র টিম লিডার মি. হিডিও ওমোরিসহ মন্ত্রণালয় ও প্রকল্পের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় মেট্রোরেল রুট-৬, ২য় কাঁচপুর, ২য় মেঘনা ও ২য় গোমতি সেতু, ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্ট-এর আওতায় দেশের পশ্চিমাঞ্চলে ৬১টি সেতু এবং মাতারবাড়ি প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এ ছাড়া মেট্রোরেল রুট-১ এবং রুট-৫-এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও এগিয়ে চলছে।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী জাপানি নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারক করছে।
উল্লেখ্য, মেট্রোরেল রুট-৬-এর ডিপোর ভূমি উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত টোকিও কন্সট্রাকশন কোম্পানি লি.-এর নিরাপত্তা বিষয়ক চার-সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। সফরকারি দলের প্রতিনিধিগণ এ সভায় যোগ দেন।
মন্ত্রণালয় তথা সরকারের গৃহিত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জাইকার কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ সন্তোষ প্রকাশ করেন।