সন্ত্রাস- জঙ্গিবাদ দমনে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন মন্ত্রীরা।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এক বৈঠকে এ কথা তুলে ধরেন তারা।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের সাংস্কৃতিক সংগঠন ও কর্মীদেরও কাজে লাগানো যেতে পারে বলেও মতামত দেন মন্ত্রীরা। একই সঙ্গে পরিবারের মধ্যেও এ বিষয়ে আরো তৎপরতা চালানোর কথা বলেন তারা।
সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলা এবং কল্যাণপুরে পুলিশি অভিযানে নিহত জঙ্গিদের পরিচয় প্রকাশ ও দেশের নামি-দামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নাম জঙ্গি তালিকায় আসায় পরিবারের পাশাপাশি উদ্বিগ্ন সরকারও। অসাম্প্রদায়িক দেশে এমন বিভৎস কর্মকাণ্ড কীভাবে ঘটতে পারে আর এতে শিক্ষার্থীদের জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে চলছে চূলচেরা বিশ্লেষণ। সামাজিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চার অভাবকেও দায়ী করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।
সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষামন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বৈঠকে বসেন সংস্কৃতিক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।
তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সারাদেশে সংস্কৃতিচর্চা জোরদার করা হচ্ছে—সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে কর্মসূচি হাতে নেয়া হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, সংস্কৃতি মানে শুধু গানবাজনা নয়— শিক্ষার্থীদের মধ্যে বোধ তৈরি করা এ লক্ষ্যেই কর্মসূচি নেয়া হবে।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে এরইমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সারাদেশেই আন্দোলন চলছে, যার যার অবস্থান থেকে— এ কাজ সমন্বিতভাবে করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ৩ সেপ্টেম্বর প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের নিয়ে সভা করা হবে।
একই সঙ্গে প্রতিটি পরিবার থেকেও দেশীয় সংস্কৃতি, ইতিহাস ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর তাগিদ দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।
এ থেকে উত্তরণ না হলে জাতি হিসেবে সামনে এগোতে পারব না। বলে মনে করেন তিনি।