যুক্তরাজ্য থেকে পালিয়ে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট-আইএসে যোগ দেয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ কিশোরী খাদিজা সুলতানা জঙ্গি এ গোষ্ঠীটি ছাড়তে চেয়েছিলো-এমনই দাবি তার পরিবার ও পারিবারিক আইনজীবীরর।
তারা জানান, আরেক জিহাদি কনে অস্ট্রেলিয়ার সামরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করায়, ভয়ে আইএস ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার আর চিন্তাই করেনি খাদিজা।
এদিকে, কয়েক সপ্তাহ আগেই সিরিয়ার রাকায় রুশ বিমান হামলায় তার নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে নিরপেক্ষভাবে খাদিজার মৃত্যুর খবরের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয় নি বলে জানিয়েছেন তাদের পারিবারিক আইনজীবী।
পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন একাডেমির শিক্ষার্থী ১৬ বছর বয়সী খাদিজা স্কুলের ছুটি কাটানোর সময় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্য থেকে পালিয়ে সিরিয়ায় যায়। সঙ্গে ছিলো দুই বন্ধু শামীমা বেগম ও আমিরা আবাসি। তুর্কি সীমান্ত দিয়ে সিরিয়ায় প্রবেশ করে তারা জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসে যোগ দেয়।
কয়েক সপ্তাহ আগে সিরিয়ার রাকায় রাশিয়ার বিমান হামলায় নিহত হন খাদিজা সুলতানা- এমন খবর দিয়েছে তার পারিবারিক সূত্র। তবে নিরপেক্ষভাবে তার মৃত্যুর খবর যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন পারিবারিক আইনজীবি তাসনিম আকুঞ্জি।
সিরিয়ায় খাদিজার বিয়ে হয়েছিল সোমালীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে এবং ধারণা করা হচ্ছে রুশ বাহিনী সমর্থিত সিরিয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় তিনি নিহত হন।
আকুঞ্জি আরো বলেন, সিরিয়ায় এক জিহাদি কনে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক সামরা, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করে আইএস জঙ্গীরা। এ ঘটনায় খাদিজা এতোটা ভয় পায় যে সে আর আইএস ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চিন্তা পর্যন্ত করেনি। ।
এদিকে, খাদিজার বোন হালিমা খানম টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার পরিকল্পনা করেছিল তার বোন। রাকা থেকে পালিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়ে নিহত হওয়ার আগে পরিবারের সঙ্গে সে যোগাযোগও করেছিল।
টেলিফোনে আলাপকালে এক পর্যায়ে হালিমা তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, সে পালিয়ে আসার ব্যাপারে কতোটা আত্মবিশ্বাসী? খাদিজা হতাশ কণ্ঠে শূন্য বলে তাদের মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও ফোনের লাইন কেটে যায়।ধারণা করা হচ্ছে ওই ফোনর পরই বিমান হামলায় খাদিজা নিহত হন।
এদিকে, এ পর্যন্ত ব্রিটেনের ৮০০ বেশি নাগরিক আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন। আর ফিরে এসেছেন প্রায় আড়াইশো নাগরিক। এদের কাউকে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, আর অন্যান্যদের সমাজে ফিরিয়ে নেওয়া হলেও নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।