বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর প্রতিবাদী সশস্ত্র প্রতিরোধও গড়ে উঠেছিল— কিন্তু চরম বৈরি পরিস্থিতিতে যারা গড়ে তুলেছিলেন সেই প্রতিরোধ খুব একটা প্রচারের আলোয় নেই তারা। কেউ কেউ মানবেতর দিন যাপন করে মারা গেছেন আবার অনেকে বেঁচে আছেন নিদারুণ কষ্টে। তারা চাইছেন স্বীকৃতি আর পরিবারের সুরক্ষা।
পুরো জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘটে ইতিহাসের নৃসংশতম ঘটনা। কুচক্রীরা হত্যা করে বঙ্গবন্ধুকে। গুলি-গোলার শব্দে ঘুম ভাঙে সবার, ভোরের আলো ফুটতেই রেডিওতে শোনেন বঙ্গবন্ধুকে হত্যার খবর। বিস্ময়ে হতচকিত সবাই -কী হলো এটা? কী করবেন তারা?
থমথমে সেই পরিস্থিতির মধ্যেই ক্ষোভ আর প্রতিশোধস্পৃহায় জ্বলে ওঠেন অনেক তরুণ রাজনৈতিক কর্মী।
তারা প্রস্তুতি নেন আবারো সশস্ত্র হবেন একাত্তরের মতো লড়বেন ঘাতকদের বিরুদ্ধে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর এমন প্রতিরোধ যুদ্ধে শামিল হন নেত্রকোনার অনেকেই। নেত্রকোনার ভারত সীমান্তবর্তী পাহাড় ঘেঁষা এলাকায় তাদের সশস্ত্র প্রতিরোধ ছিল একটানা তিন মাসের। তারপরও বছরখানেক তারা বিক্ষিপ্ত প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছেন। পরবর্তী সময়ে জেল, নির্যাতন-নিপীড়নের মুখে পড়তে হয় সবাইকে। মানবেতর জীবন পার করতে হয়েছে তাদের।
এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ সরকার— ঘটনার বহুবছর পর বিচার হয়েছে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের। কিন্তু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা সেদিন গড়ে তুলেছিলেন সশস্ত্র প্রতিরোধ কি অবস্থায় আছেন তারা?
সেদিনের প্রতিরোধ যোদ্ধারা চাইছেন স্বীকৃতি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আশ্বাসও মিলেছে প্রতিরোধকারীদের সনাক্তকরণ ও স্বীকৃতি প্রদানের।