বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের মৃত্যুদণ্ডের আংশিক রায় কার্যকর হওয়ার ছয় বছর পার হলেও পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর প্রক্রিয়ায় নেই তেমন কোনো অগ্রগতি।
দুই খুনির অবস্থান সম্পর্কে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলেও চার জনের অবস্থান এখনো অজানা। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর হয়েছে ৫ জনের। অপর ৭ জনের মধ্যে একজন মারা গেছেন। বাকি ৬ খুনির মধ্যে একজন যুক্তরাষ্ট্রে ও একজন কানাডায় রয়েছেন। অন্য চার খুনির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই সরকারের কাছে।
তবে এ দুই খুনিকে ফিরিয়ে আনতে সরকার সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ঘটনা দম্ভ করে বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে স্বীকার করেছিলেন লে. কর্নেল. খন্দকার আব্দুর রশীদ ও সৈয়দ ফারুক রহমান।
বঙ্গবন্ধুর এ আত্মস্বীকৃত খুনি আব্দুর রশীদসহ ১২ জনকে দেয়া বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায় আপিল বিভাগে বহাল থাকায় ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে দেশে থাকা ৫ খুনি সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মহিউদ্দিন আহমদ, এ কে বজলুল হুদা এবং এ কে এম মহিউদ্দিনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়।
বঙ্গবন্ধুর অন্যতম আত্মস্বীকৃত খুনি খন্দকার আব্দুর রশীদ কখনো পাকিস্তান কিংবা লিবিয়ায় থাকলেও তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই সরকারের কাছে। পাশাপাশি অন্য তিন খুনি মেজর শরিফুল হক ডালিম, ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজেদ এবং রিসালদার মোসলেম উদ্দিন একেক সময় একেক দেশে থাকায় তাদের অবস্থান সম্পর্কেও নিশ্চিত নয় সরকার। অপর খুনি আজিজ পাশা জিম্বাবুয়েতে মারা গেছেন বলে কথিত আছে।
পলাতক এসব খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন সময়ে চালানো হচ্ছে কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়োগ দেয়া হয়েছে আইনজীবী আর গঠিত হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স। জারি রয়েছে ইন্টারপোলের রেড এলার্টও। তবে সরকারের এতো সব উদ্যোগে কার্যকর কোনো ফল পাওয়া যায়নি এখনো।
দীর্ঘদিন থেকে কানাডায় থাকা খুনি নুর চৌধুরী সম্পর্কে জানা থাকলেও মৃত্যুদণ্ডকে সমর্থন করে না বলে দেশটির সরকার তাকে বাংলাদেশে ফেরত দিচ্ছে না। আর রাশেদ চৌধুরী রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে।