রাজধানীর নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে জাতীয় শোক দিবস— ছিল দোয়া মাহফিল ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন। এছাড়াও দুঃস্থদের খাবার বিতরণ ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন সকলে।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সোমবার রাজধানীর মগবাজারে রক্তদান কর্মসূচী ও কাঙালী ভোজের আয়োজন করে রমনা থানা আওয়ামী লীগ। কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। পরে দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।
রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মুগদা ও মাণ্ডা এলাকায় দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন ঢাকা ৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। শোককে শক্তিতে পরিণত করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দেশ গড়তে সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
পুরোনো ঢাকার বিভিন্ন স্থানে কাঙালী ভোজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ার আহবান জানান নেতারা।
ধানমন্ডি তিনের এ-তে দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ। ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা একটি কবিতার বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
নয়াপল্টনে লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীগুলোর আয়োজনে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। শোকদিবস উপলক্ষে হামদর্দ ল্যাবরেটরিজের পক্ষ থেকে গরীবদের মাঝে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয় শোক দিবস উপলক্ষে। এতে বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টে নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয়ে বিশেষ প্রার্থনা। এতে বঙ্গবন্ধু ও ১৫ আগস্টে নিহতদের সদগতি কামনায় গীতাপাঠ ও প্রার্থনা করা হয়। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন গীর্জা, মন্দির ও প্যাগোডায় আয়োজন করা হয় বিশেষ প্রার্থনার।
এদিকে, সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী। দিবসটি পালনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শোক শোভাযাত্রা, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা ও প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন।
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সারাদেশে পালিত হচ্ছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদাৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। খুলনায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে শোক শোভাযাত্রা বের করা হয়।
শোক দিবসে চট্টগ্রামে নেওয়া হয়েছে দিনব্যাপী কর্মসূচি। আলোচনা সভা, শোক র্যা লী ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন। এছাড়া রাউজানে শোক দিবসে জঙ্গিবিরোধী সমাবেশ, মিলাদ মাহফিল ও কাঙালি ভোজের আয়োজন করে রাউজান জেলা আওয়ামী লীগ।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, শোক শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে সিলেটে পালিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎবার্ষিকী।
বরিশালে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। পরে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। এছাড়া আলোচনা সভা, কোরআন খানি, মিলাদ মাহফিলসহ দিনভর নগরীতে নেওয়া হয় নানা আয়োজন।
১৫ আগস্টের প্রথম প্রহরে মোমবাতি জ্বালিয়ে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে রাজশাহীবাসি। এসময় বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানায় তারা।
জাতীয় শোক দিবসে রংপুরে শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে টাউন হলে আলোচনা সভা ও রক্তদান কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে কুমিল্লার টাউনহল মাঠ থেকে শোক শোভাযাত্রা বের করে আওয়ামী লীগ।
পটুয়াখালীতে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধা জানায় জেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।
এছাড়াও আলোচনা সভা, শোভাযাত্রাসহ নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহ, গাজীপুর, নোয়াখালী, নীলফামারী, রাজবাড়ি, নাটোর, দিনাজপুর, খাগড়াছড়ি, ফরিদপুর, নড়াইল, যশোর, মাগুড়া, কুড়িগ্রাম, চুয়াডাঙ্গা, নেত্রকোণা, ধামরাই, হবিগঞ্জ, মেহেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পালিত হচ্ছে জাতীয় শোক দিবস।