এখনো ঝুলে আছে আলোচিত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের ভাগ্য নির্ধারণ। বাবুল তার পদত্যাগপত্র নিজেই জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
তবে এ পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করার পক্ষে বাবুলের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন। চাকরি হারালে সন্ত্রাসীদের হাতে বাবুলের প্রাণহানি ঘটতে পারে বলেও শঙ্কিত তিনি।
মিতু হত্যাকাণ্ডের ১৫ দিনের মাথায় ২৪ জুন মধ্যরাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবুলকে মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে নেয়া হয়। ১৬ ঘণ্টা পর আবারও তাকে পৌঁছে দেয়া হয় বাসায়। সে সময় তার কাছ থেকে পদত্যাগপত্র নেয়া হয় বলে জানা যায়। গুঞ্জন ওঠে চাকরি ছাড়ার শর্তে স্ত্রী হত্যার দায় থেকে বাঁচতে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন তিনি। এরপর গত ৩ ও ৪ আগস্ট পুলিশ সদর দপ্তর গিয়ে তিনি একটি লিখিত ব্যাখ্যা দেন। সে ব্যাখ্যায় বাবুল পদত্যাগ করেছেন বলে কোনো উল্লেখ নেই।
মিতু হত্যাকাণ্ডের পর ১৩ আগস্ট প্রথম মুখ খোলেন বাবুল আকতার। তার ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এক স্ট্যাটাসে অনেকটা আক্ষেপের সুরে তিনি লেখেন, যখন মা হারানো মেয়েটার অযথা গড়াগড়ি দিয়ে কান্নার শব্দ কেবল আমিই শুনি, তখন অনেকেই নতুন নতুন গল্প বানাতে ব্যস্ত। আমি তো বর্ম পরে নেই, কিন্তু কোলে আছে মা হারা দুই শিশু। আঘাত সইতেও পারি না, রুখতেও পারি না।
সবশেষে তিনি লেখেন, এরপর আর কোনো ভোর আমার জীবনে সকাল নিয়ে আসেনি। সন্তান দুটো এবং আমি আর স্নেহের ছায়ায় ঘুমাইনি। এরপরই আমি বুঝেছি সংসার কি।
গত এপ্রিলে এসপি হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত হন বাবুল আক্তার। ৫ জুন সকালে চট্টগ্রামের জিইসি মোড় এলাকায় বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু শিশু সন্তানের সামনেই দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন। স্ত্রী খুন হওয়ার দিন বাবুল ঢাকায় ছিলেন। পরে দুই শিশু সন্তান নিয়ে রাজধানীর বনশ্রীর ভূঁইয়া পাড়ায় শ্বশুরের বাসাতে ওঠেন। অদ্যাবধি সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি।