পঁচাত্তরের ঘাতকচক্র ও তাদের দোসরদের নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে সে সময় বাংলাদেশ বেতারে কর্মরর্তাদেরও। ১৫ আগস্টে বেতার ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর খুনিচক্রের মোতায়েন করা সেনাদল খুঁজে ফিরতো কোথায় কী হচ্ছে।
এর মধ্যে তাদের কাছে বেতারে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচারের আয়োজন চলছে রটানো হলে বেতারের কয়েকজন কর্মকর্তা অকথ্য নির্যাতনের শিকার হন, বন্দিত্ব বরণ করেন। সেই নির্যাতনের শিকার বেতার কর্মকর্তা নির্মল চন্দ্র মণ্ডলের বয়ানে উঠে এসেছে সেই খণ্ডচিত্র।
১৯৭৫ এর আগস্টে বাংলাদেশ বেতারের ট্রান্সক্রিপশন বিভাগ ব্যস্ত ছিল বঙ্গবন্ধুর সব ভাষণ বাণীবদ্ধ করার কাজে। উদ্দেশ্য ছিল বাণীবদ্ধ ভাষণ ব্যবহার করা হবে তথ্যচিত্রে। একই সঙ্গে চলছিল এসব ভাষণের আর্কাইভ তৈরির কাজটিও। ১৪ আগস্ট রাতেও এ কাজটি চলেছিল যথারীতি।
১৫ আগস্টের প্রথম প্রহরে ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যরা। সেদিন সকালে অফিসে এসে বেতারের কর্মকর্তা কর্মচারীরা দেখলেন পুরো বেতারকেন্দ্র সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যের দখলে।
এদিকে, সরকারের আগের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৫ আগস্টের পরেও ঘাতকচক্রের অজ্ঞাতসারে বঙ্গবন্ধুর সব ভাষণ বাণীবদ্ধ করার কাজটি চালিয়ে যেতে থাকেন ট্রান্সক্রিপশন বিভাগের কর্মকর্তারা। ঘাতকচক্রও ভেতরে ভেতরে খুঁজতে থাকে, বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কেউ কিছু করছে কি-না?
এরইমধ্যে ট্রান্সক্রিপশন বিভাগকে জড়িয়ে তাদের কাছে রটানো হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের আদলে একটি আলাদা ইউনিট করার চেষ্টা হচ্ছে বাংলাদেশ বেতারে, যেখান থেকে প্রচার করা হবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও বাংলার মানুষের মন থেকে তাকে যে সরানো যাবে না; ঘাতকচক্র তা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিল। সে কারণেই ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলতে সব ধরনের চেষ্টা করেছে তারা।