প্রয়োজনে রাজনৈতিক গতিধারা পরিবর্তন করে হলেও সুন্দরবনের রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ করা হবে –জানিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
শনিবার ‘রামপাল চুক্তি ছুড়ে ফেলো, সুন্দরবন রক্ষা করো’—এ স্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাম ধারার বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে— তথ্য-প্রমাণ দিয়ে তা প্রমাণ করা হয়েছে আমাদের এ সংগ্রাম বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে নয়—এ সংগ্রাম সুন্দরবন রক্ষার জন্য।
আমার বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সুন্দরবন দুটোই চাই—এ কথা জানিয়ে তিনি আরো বলেন, রাজনীতির পরিবর্তন করে হলেও রামপাল প্রকল্প বন্ধ করা হবে। এজন্য বিদ্যুৎ সমস্যার টেকসই সমাধানে জাতীয় কমিটির দেয়া সাত দফা বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির উদ্যোগে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের দাবিতে আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মসূচিতে, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হলে সুন্দরবন ও এর আশে-পাশের বনাঞ্চল ও জনজীবনের ক্ষয়-ক্ষতি তুলে ধরেন বক্তারা।
এ সময় বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন নয়, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সুন্দরবন দুটোরই প্রয়োজন আছে। অন্যদেশের স্বার্থ রক্ষা করে সরকার পরিবেশ বিরোধী যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে তা কখনই সফল হতে দেয়া যাবে না।
যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে পরিবেশ ধ্বংসকারীদের তুলনা করে তারা বলেন, ভবিষ্যতে মানবতাবিরোধীদের মতো এ অপরাধীদেরও বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।
বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামের কথা মনে করিয়ে দিয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকারের এ পরিবেশ বিরোধী উদ্যোগ কখনওই সফল হতে দেয়া হবে না।
এ আন্দোলন আরো বেগবান করতে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বেলা সোয়া ১১টার দিকে তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ অবস্থান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, দেশি-বিদেশি লুটেরাদের স্বার্থকে রক্ষার জন্য এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে— ভাড়া করা বিশেষজ্ঞরা শোনাচ্ছেন, সুন্দরবন ধ্বংস হবে না এটা ঠিক নয়।
তিনি আরো বলেন, যখন বুড়িগঙ্গার দুর্গন্ধ দূর করতে পারেন না খালে পড়ে গেলে শিশু উদ্ধার করতে পারেন না, হাতিরঝিলে নাকে রুমাল চেপে যেতে হয়, তখন রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পর সুন্দরবন রক্ষা হবে, তা আমরা মানি না।
কলামিস্ট লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১ হাজার ৬০০ মানুষও এ প্রকল্প চায় না— এটা জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।
বক্তব্য শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বাঁ পাশে একটি মুক্ত ক্যানভাসের উদ্বোধন করা হয় এখানে বিভিন্নজন মন্তব্য করতে পারবেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পাটি, গণসংহতি আন্দোলন, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, সুজন, নাগরিক ঐক্যসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছেন।