রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে দমকল বাহিনী— তবে আগুনের কারণ এখনো জানা যায়নি।
রোববার ৫ ঘণ্টা চেষ্টার পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ছয় তলায় অগ্নিকাণ্ডে ১৯ জন আটকা পড়লেও তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এদিকে, শপিং কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে ৮টি দোকান পুরোপুরি পুড়ে গেছে আর আংশিকভাবে পুড়ে গেছে আরো কয়েকটি দোকান।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়— আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের ২৯টি ইউনিট।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর শাকিল নেওয়াজ বলেন, ভেতরে আগুন কিছুটা আছে, তবে তা নিয়ন্ত্রণে।
তিনি বলেন, তরে অনেক দাহ্য পদার্থ থাকায় নিয়ন্ত্রণে সময় লেগেছে।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভবনের ছাদ আটকে পড়া ১৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমদ খান জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খবর পেয়ে তাদের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পরে আরো ১৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ করেছে।
হতাহতের খবর এখনো জানা যায়নি। ৬ তলার একটি জুতার দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে শোনা গেলেও তা নিশ্চিত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।
এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে—আগুন নেভানোর ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ফায়ার সার্ভিসকে সহায়তা করা হয়।
ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আগুনের খবর শুনে শপিং কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা লোকজন হুড়োহুড়ি শুরু করেন। তাড়াহুড়ো করে বাইরে বেরিয়ে আসতে থাকেন। ভেতরের লোকজনকে বাইরে বের করে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও কাজ করেন।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন বলেন, রোববার সকাল সোয়া ১১টার দিকে অভিজাত এই শপিং কমপ্লেক্সের লেভেল-৬ এ আগুন লাগে।
এর আগে ২০০৯ সালে এই মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। এতে মারা যান ৭ জন।