বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রথম নাটকের শিল্পী এবং তৃতীয় নাটকের নাট্যকার বিশিষ্ট অভিনেতা ফরিদ আলী আর নেই। সোমবার বিকেল ৪টায় মিরপুরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও বার্ধক্যজনিত নানান রোগে ভুগছিলেন ফরিদ আলী। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ১৯ আগস্ট তাকে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। স্ত্রী, ৪ ছেলেমেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন বর্ষীয়ান এ অভিনেতা।
বিশিষ্ট অভিনেতা ফরিদ আলী ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম হাসির নাটক ‘ত্রি-রত্ন’র অভিনয়শিল্পী এবং তৃতীয় নাটকের নাট্যকার। শহীদুল আমীনের লেখা ‘কনে দেখা’র মাধ্যমে ১৯৬২ সালে মঞ্চ অভিনয়ে যাত্রা শুরু হয় তার। এরপর অসংখ্য মঞ্চনাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।
অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর লেখা ‘একতলা দোতলা’ নাটকের মাধ্যমে ১৯৬৪ সালে টিভিতে প্রথম দেখা যায় তাকে। ফরিদ আলীর লেখা প্রথম টিভি নাটক হলো ‘নবজন্ম’।
চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন ফরিদ আলী— ১৯৬৬ সালে আমজাদ হোসেনের ‘ধারাপাত’ ছবির মাধ্যমে রূপালি পর্দায় অভিষেক হয় তার। ‘সংগ্রাম’, ‘গুন্ডা’, ‘রংবাজ’, ‘ঘুড্ডি’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘সমাধান’, ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘শ্লোগান’, ‘চান্দা’, ‘দাগ’, অধিকার’সহ বিভিন্ন ছবিতে তার অভিনয়ে সবশ্রেণীর দর্শকই হেসেছে।
তার মুখে ‘টাকা দেন দুবাই যাবো, বাংলাদেশে থাকবো না’ সংলাপটি তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো।
ফরিদ আলীর পুত্র ইমরান আলী সাংবাদিকদের বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাবার (ফরিদ আলী) চিকিৎসার ভার নিয়ে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তবে এতে শেষ রক্ষা হয়নি। আগামীকাল (মঙ্গলবার) বাবার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে, ফরিদ আলীর মৃত্যুতে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি শ্রদ্ধা জানাতে তার মরদেহ বাংলাদেশ চলচিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) নিয়ে আসার জন্য পরিবারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়ে বলে জানা গেছে।