নৌ-যান শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে— তবে আলোচনা ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রম ভবনে নিজেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে নৌ-মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন শ্রমিক নেতারা।
দুপুরে শ্রম ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে শ্রম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এস এম আশ্রাফুজ্জামান জানান, আলোচনা শেষ হয়নি— আবারো বৈঠক হবে দুপক্ষই সমাধানে আগ্রহী।
তবে, মালিকপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এদিকে, ধর্মঘটকে শ্রমিকদের খামখেয়ালিপনা অ্যাখ্যা দিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, দুপক্ষের গাফিলতির কারণেই এ অচলাবস্থা।
এদিকে, নৌ ধর্মঘটের তৃতীয় দিনে সদরঘাট থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে প্রায় অর্ধশতাধিক লঞ্চ ছেড়েছে— রাজধানীর বাইরে থেকেও লঞ্চ ভিড়েছে সদরঘাটে।
এদিকে, আরেক আনুষ্ঠানে নৌপথের অচল অবস্থা নিরসনে শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকদের বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।
চলমান নৌ ধর্মঘট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মালিক ও শ্রমিকদের খামখেয়ালির কারণেই এ অচলাবস্থা।
এদিকে, তৃতীয় দিনের মতো নৌ-যান শ্রমিকদের ধর্মঘটের তুলনায় নৌ-যান চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে।
সকাল থেকে প্রায় ৪০টি লঞ্চ রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ছেড়ে গেছে। বেশ কিছু লঞ্চ ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়ার উদ্দেশে টার্মিনালে অবস্থান করছে।
বিকেলে ঢাকা ছেড়ে যাবে বরিশালের লঞ্চগুলো— দুপুর নাগাদ সারাদেশের প্রায় ৪৪টি রুটের ৩৬টি লঞ্চ ঢাকার বাইরে থেকে সদরঘাটে এসেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, নৌপথের অচল অবস্থা নিরসনে শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকদের বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।
দুপুরে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
এদিকে, ন্যূনতম মজুরিসহ বিভিন্ন দাবিতে সারাদেশে বৃহস্পতিবার ৩য় দিনের মত অনির্দিষ্টকালের নৌযান ধর্মঘট চলছে। এতে অচল হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান নদী বন্দরগুলো। ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
গতকাল রাতে সদরঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ২৭টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে।
জানা গেছে, গতকাল ভোর ৫টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চল থেকে মাত্র ২২টি লঞ্চ ঢাকার সদরঘাটে ভিড়েছে— আর এ পর্যন্ত ছেড়ে গেছে ৬টি।
ঢাকা নদীবন্দরের নৌযান পরিদর্শক দীনেশ কুমার সাহা জানান, বেলা ১১টা পর্যন্ত লঞ্চ এসেছে মাত্র ২২টি আর টার্মিনাল ছেড়ে গেছে ৬টি।
বাংলাদেশ নৌযানশ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, দাবি মানা না পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে এখানে যেসব লঞ্চ ছেড়ে গেছে, সেগুলো নৌযানশ্রমিক ফেডারেশনের সম্পৃক্ত না। দাবিদাওয়া পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
মঙ্গলবারের তথ্য:
রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে সারাদেশে এ ধর্মঘট শুরু করেছে বলে জানান নৌযান শ্রমিকরা।
মালিক-শ্রমিক সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. শাহ্ আলম ভূঁইয়া বলেন, নৌশ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বানে চার দফা দাবিতে এ ধর্মঘট চলছে।
চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম মজুরি ১০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বেতন স্কেল ঘোষণা, দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ পুনর্নির্ধারণ, নৌপথে সন্ত্রাস, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ নদীপথ প্রতিরক্ষা বলেও জানান তিনি।