বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বাদী আ ফ ম মুহিতুল ইসলাম আর নেই। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ট্রেজারার অধ্যাপক মো. আলী আজগর মোড়ল এ কথা জানিয়েছেন।
৬৩ বছর বয়সী মুহিতুল কিডনির সমস্যা নিয়ে গত মাসে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তার কিডনি প্রায় অকেজো, ঘনঘন ডায়ালাইসিস করা হচ্ছিল— তার ফুসফুসের সংক্রমণও বেশ মারাত্মক ছিল। মস্তিষ্কও ভালোভাবে কাজ করছিল না।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকার সময় তার রিসিপসনিস্ট কাম রেসিডেন্ট পিএ ছিলেন মুহিতুল। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যানকাণ্ডের সময় তিনি ধানমণ্ডির ওই বাড়িতেই ছিলেন।
বঙ্গবন্ধু হত্যারকাণ্ডের বিচারের বাধা কেটে যাওয়ার পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় মামলা করেন মুহিতুল।
গত ২৮ দিন ধরেই লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। মঙ্গলবার তার অবস্থার আরো অবনতি ঘটে। কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দেয়ায় গত ১১ জুলাই তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের নেফ্রোলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ১০ আগস্ট হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।
তার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করার পরও ভরসা পাচ্ছিলেন না চিকিৎসকরা। অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় বিদেশেও নেয়া যায়নি তাকে।
তার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও ছুটে আসেন। জানাজায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।
প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে। এরপর মিরপুরের পুলিশ স্টাফ কলেজ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মরদেহ মুহিতুলের দেশের বাড়ি যশোরে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তৃতীয় ও চতুর্থ জানাজা শেষে শুক্রবার তাকে দাফন করা হবে।