সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে নিরাপত্তা সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র— ঢাকায় সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।
সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় জন কেরির সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।
বৈঠক শেষে মাহমুদ আলী বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বাংলাদেশের সন্ত্রাস দমনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো টল্যারেন্সের প্রশংসা করেছেন। এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কথাও তিনি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত চাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশে ফিরে এ বিষয়ে আলোচনা করে উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।
এ বৈঠক দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং এতে ১০ সদস্যের ২টি প্রতিনিধি দল অংশ নেন।
পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, জিএসপি সুবিধা নিয়ে ঢাকায় সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।
পরে কেরি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন জন কেরি।
এ সময় জন কেরি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই করবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
পরে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক শেষে এক টুইট বার্তায় বাংলাদেশের প্রশংসা করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি অনন্যসাধারণ।
এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে জন কেরিকে বহনকারী বিশেষ ফ্লাইটে করে জেনেভা থেকে ঢাকায় হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বিমানবন্দরে জন কেরিকে স্বাগত জানান।
পরে বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সেরে জন কেরি রাজধানীর একটি হোটেলে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে যান।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।